সুদানের ৭ জন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব: তাদের বিস্ময়কর জীবন ও অর্জনগুলি দেখুন

webmaster

수단 유명 인물 - **A Glimmer of Hope:**
    A poignant image of a young boy, Luol Deng, approximately 6-8 years old, ...

কিছু মানুষ আছেন, যারা শুধু নিজেদের কাজের গণ্ডি পেরিয়ে এক নতুন গল্প তৈরি করেন, যা হাজার হাজার মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। সুদানের এমনই একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন ল্যুওল ডেং। তার নাম হয়তো অনেকেই শুনেছেন, কিন্তু তিনি যে শুধু একজন সফল বাস্কেটবল খেলোয়াড় নন, বরং একটি জাতির জন্য আশার প্রতীক – তা হয়তো অনেকেই জানেন না। যুদ্ধবিধ্বস্ত দক্ষিণ সুদান থেকে এক উদ্বাস্তু শিশু হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর সেখান থেকে বিশ্বসেরা বাস্কেটবল লিগ NBA-তে নিজের জায়গা করে নেওয়া, এ যেন কল্পনারও অতীত এক কাহিনী।ল্যুওল ডেং শুধু তার অসাধারণ খেলা দিয়ে নয়, মাঠের বাইরেও নিজের দেশ ও মানুষের জন্য যে অবদান রেখে চলেছেন, তা সত্যিই অভাবনীয়। অবসর নেওয়ার পরও তার কর্মপ্রচেষ্টা থামেনি। তিনি দক্ষিণ সুদান বাস্কেটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন, আর তার হাত ধরেই দেশটির বাস্কেটবল দল প্রথমবারের মতো অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে পা রাখার সুযোগ পেয়েছে। ভাবুন তো, এটা শুধু একটি খেলার জয় নয়, এটি একটি নতুন দেশের আত্মবিশ্বাস আর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক। এই ঘটনাটা যখন শুনি, আমার তো গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে!

তরুণ প্রজন্মের জন্য এটা যে কতটা বড় অনুপ্রেরণা, তা বলে বোঝানো যাবে না। তার এই যাত্রাপথ আমাকে বারবার শেখায় যে, সঠিক দিকনির্দেশনা আর দৃঢ় সংকল্প থাকলে যেকোনো অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। সত্যিই, ল্যুওল ডেং প্রমাণ করে দিয়েছেন, একজন ব্যক্তি কীভাবে পুরো সমাজের জন্য একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এই অসাধারণ মানুষটির জীবন ও তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও জানতে নিচে দেওয়া লেখাটি পড়ুন।

যুদ্ধ ও স্বপ্নভঙ্গের পথ পেরিয়ে: এক অদম্য যাত্রা

수단 유명 인물 - **A Glimmer of Hope:**
    A poignant image of a young boy, Luol Deng, approximately 6-8 years old, ...

ল্যুওল ডেং এর জীবনটা শুনলে মনে হয় যেন কোনো সিনেমার গল্প। দক্ষিণ সুদানের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত একটা দেশ থেকে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল, যেখানে প্রতিদিনের বেঁচে থাকাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাবা-মায়ের সাথে যখন দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল, তখন তার বয়স মাত্র ছয় বছর। ভাবুন তো, এইটুকু একটা বাচ্চা, যার হাতে খেলনা থাকার কথা, সে কিনা দেখছে চারপাশে শুধুই ধ্বংস আর অনিশ্চয়তা। আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিলেন মিশরে, তারপর পাড়ি জমিয়েছিলেন ইংল্যান্ডে। আমার মনে হয়, এই প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠাই তাকে ভেতরে ভেতরে আরও দৃঢ় করেছে, শিখিয়েছে কীভাবে জীবনে যেকোনো বাধা পেরিয়ে যেতে হয়। সেই ছোট্ট ল্যুওল হয়তো তখনো জানতো না, এক সময় সে নিজেই হয়ে উঠবে হাজারো মানুষের পথপ্রদর্শক। তার এই যুদ্ধ-ক্লান্ত অতীত তাকে আরও বেশি সংবেদনশীল এবং মানবতাবাদী হতে শিখিয়েছে, যার প্রমাণ আমরা তার বর্তমান কাজকর্মে পাই। এই সংগ্রামই তার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক ছিল, যা তাকে শুধু একজন ভালো খেলোয়াড়ই নয়, একজন অসাধারণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। এই গল্পটা যখনই শুনি, আমার মনের গহীনে এক অদ্ভুত শ্রদ্ধাবোধ জন্ম নেয়, কারণ আমিও বিশ্বাস করি, কঠিন পরিস্থিতিই মানুষকে আসল শক্তি চিনতে শেখায়।

অজানা এক শৈশব: স্বপ্ন আর বাস্তবের মাঝে

ল্যুওল ডেং এর শৈশবটা অন্য আর দশটা শিশুর মতো সহজ ছিল না। যেখানে শিশুদের খেলাধুলা আর স্কুলে যাওয়ার কথা, সেখানে ল্যুওলের জীবনে ছিল কেবল অনিশ্চয়তা আর টিকে থাকার লড়াই। যুদ্ধ মানেই তো সব স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া, তাই না? কিন্তু ছোটবেলা থেকেই হয়তো তার মধ্যে কিছু একটা ছিল, যা তাকে হতাশ হতে দেয়নি। মিশরে আসার পর তিনি প্রথম বাস্কেটবলের সাথে পরিচিত হন। এই খেলাটাই যেন তার জীবনে এক নতুন আশার আলো হয়ে আসে। যুদ্ধের ভয়াল স্মৃতিগুলো হয়তো তাকে তাড়া করত, কিন্তু বাস্কেটবলের কোর্টে তিনি খুঁজে পেতেন এক অন্য জগৎ, যেখানে নিজের ভেতরের শক্তিকে কাজে লাগানো যেত। এই সময়েই হয়তো তার জীবনের মোড় ঘুরেছিল, যখন তিনি বুঝতে পারছিলেন খেলাধুলার মাধ্যমেও একটি নতুন জীবন গড়া সম্ভব। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, আমাদের সবার জীবনেই এমন একটা মোড় আসে, যা সব কিছু বদলে দেয়, আর ল্যুওলের জীবনে সেটা ছিল বাস্কেটবল।

বাস্কেটবলের হাতেখড়ি: নতুন জীবনের সূত্রপাত

ইংল্যান্ডে আসার পর ল্যুওল ডেং এর বাস্কেটবল প্রতিভার আসল বিকাশ ঘটে। সেখানে এক কোচ তার ভেতরের সুপ্ত সম্ভাবনাকে চিনতে পারেন। তারপর তো শুধুই এগিয়ে যাওয়ার পালা। কঠোর অনুশীলন আর অসম্ভব পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে একজন পেশাদার বাস্কেটবল খেলোয়াড় হিসেবে তৈরি করেন। তার এই যাত্রাপথ দেখে আমার মনে হয়, আমাদের জীবনেও এমন কিছু মানুষ আসে, যারা আমাদের ভেতরের সেরাটা বের করে আনতে সাহায্য করে। ল্যুওল ডেং এর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। বাস্কেটবল শুধু তার জন্য একটি খেলা ছিল না, এটি ছিল তার আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার মাধ্যম, একটি নতুন পরিচিতি গড়ে তোলার সুযোগ। যে ছেলেটি যুদ্ধ থেকে পালিয়ে বেড়িয়েছে, সেই ছেলেটিই এক সময় হয়ে উঠল আন্তর্জাতিক বাস্কেটবল অঙ্গনের উজ্জ্বল তারকা। এই পরিবর্তনটা সত্যিই অবিশ্বাস্য! তার এই গল্প আমাকে শেখায় যে, আমরা কোথায় জন্মেছি বা কোন পরিস্থিতিতে বড় হয়েছি, তার চেয়ে বড় কথা হলো আমরা কতটা স্বপ্ন দেখতে পারি এবং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য কতটা চেষ্টা করি।

এনবিএ-তে নিজের জায়গা করে নেওয়া: কঠোর পরিশ্রমের প্রতিচ্ছবি

ল্যুওল ডেং এর এনবিএ যাত্রাটা কোনো রূপকথার গল্পের চেয়ে কম কিছু ছিল না। বিশ্বের সেরা বাস্কেটবল লিগে নিজের জায়গা করে নেওয়াটা যে কত কঠিন, তা আমরা সবাই জানি। এখানে টিকে থাকতে হলে শুধু প্রতিভা থাকলেই চলে না, প্রয়োজন হয় অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর বছরের পর বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম। ল্যুওল ডেং এই দুটোই করে দেখিয়েছিলেন। শিকাগো বুলসে তার সময়টা ছিল অসাধারণ। তিনি শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, একজন সত্যিকারের দলের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন। তার খেলা দেখে মনে হতো, প্রতিটা পজেশনে তিনি নিজের সবটুকু উজাড় করে দিচ্ছেন। মাঠে তার উপস্থিতি দলটাকে একটা অন্য মাত্রায় নিয়ে যেত। আমার মনে আছে, তার ডিফেন্স আর গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্কোর করার ক্ষমতা ছিল দেখার মতো। অনেক সময় আমরা কেবল খেলোয়াড়দের সাফল্য দেখি, কিন্তু এর পেছনের ঘাম আর ত্যাগটা আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। ল্যুওলের ক্ষেত্রেও তাই। তার প্রতিটা পদক্ষেপ ছিল আত্মনিবেদনের এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

তারকা হয়ে ওঠা: এনবিএ-র ঝলমলে অধ্যায়

২০০৪ সালে এনবিএ ড্রাফটে ল্যুওল ডেংকে শিকাগো বুলস দলে নেয়, আর এটাই ছিল তার জীবনের এক নতুন মোড়। এরপর প্রায় এক দশক ধরে তিনি বুলসের একজন অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। তার খেলা ছিল বুদ্ধিদীপ্ত, কৌশলগত এবং একই সাথে আক্রমণাত্মক। তিনি দুইবার এনবিএ অল-স্টার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা তার প্রতিভার এক জ্বলন্ত প্রমাণ। আমার মনে হয়, এনবিএ-র মতো বড় মঞ্চে একজন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় হিসেবে এমন সাফল্য অর্জন করাটা কতটা গর্বের। তিনি শুধু নিজে ভালো খেলেই থামেননি, বরং দলের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একজন পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছেন, কিন্তু কখনো হাল ছাড়েননি। এই বিষয়টা আমাকে দারুণভাবে মুগ্ধ করে। তার খেলার ধরন ছিল এমন যে, তিনি শুধু পয়েন্ট স্কোরিংয়ে বিশ্বাসী ছিলেন না, বরং দলকে জেতানোর জন্য সব কিছু করতে পারতেন, তা ডিফেন্স হোক বা রিবাউন্ডিং।

মাঠের বাইরেও দৃষ্টান্ত: একজন আদর্শ খেলোয়াড়

এনবিএতে থাকাকালীন ল্যুওল ডেং শুধু মাঠের ভেতরেই নয়, মাঠের বাইরেও নিজের একটা আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। তার শান্ত স্বভাব, বিনয় এবং কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা তাকে সবার কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের ক্রীড়াবিদ, যিনি সবসময় নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলতেন। কোনো বিতর্ক বা অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে নিজেকে দূরে রাখতেন। আমার মনে হয়, আজকের দিনে যেখানে অনেক খেলোয়াড় নানা কারণে বিতর্কের জন্ম দেন, সেখানে ল্যুওল ডেং ছিলেন একজন আদর্শ রোল মডেল। তিনি প্রমাণ করে গেছেন যে, শুধু ভালো খেললেই হয় না, একজন ভালো মানুষ হওয়াটাও জরুরি। তার সতীর্থরা সবসময় তার প্রশংসা করতেন, কারণ তিনি শুধু নিজের কথা ভাবতেন না, দলের সবার কথা ভাবতেন। এই গুণগুলোই তাকে এনবিএ-র অন্যতম শ্রদ্ধেয় খেলোয়াড়ে পরিণত করেছিল।

Advertisement

শুধু একজন খেলোয়াড় নয়, একজন নেতা: দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা

ল্যুওল ডেং যখন বাস্কেটবল থেকে অবসর নিলেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, এবার হয়তো তিনি আরাম-আয়েশে জীবন কাটাবেন। কিন্তু তার মনে ছিল ভিন্ন পরিকল্পনা। তিনি নিজের জন্মভূমি দক্ষিণ সুদানের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলেন, যে দেশটা তাকে অনেক কিছু দিয়েছে। তিনি দক্ষিণ সুদান বাস্কেটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যা তার দেশপ্রেমের এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত। এটা শুধু একটা পদবি ছিল না, ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে যেখানে খেলাধুলার পরিকাঠামো বলতে গেলে কিছুই নেই, সেখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের বাস্কেটবল দল গড়ে তোলাটা সহজ কাজ নয়। কিন্তু ল্যুওল ডেং তার এই চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করেছিলেন বুক চিতিয়ে। তার এই সিদ্ধান্তটা যখন শুনেছিলাম, তখন মনে হয়েছিল, সত্যি মানুষটা কতটা মহান হতে পারে। নিজের সুবিধার কথা না ভেবে দেশের জন্য এমন একটা কঠিন দায়িত্ব নেওয়াটা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।

নেতৃত্বের নতুন ইনিংস: বাস্কেটবল ফেডারেশনের দায়িত্ব

ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে ল্যুওল ডেং এর লক্ষ্য ছিল পরিষ্কার: দক্ষিণ সুদানকে বাস্কেটবলের বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরা। তিনি অবকাঠামো উন্নত করতে, তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করতে এবং কোচিং স্টাফদের প্রশিক্ষিত করতে কাজ শুরু করেন। তার সবচেয়ে বড় উদ্যোগ ছিল দক্ষিণ সুদানের বাস্কেটবল দলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলানোর সুযোগ করে দেওয়া। তিনি নিজ উদ্যোগে বিদেশি কোচ এবং খেলোয়াড়দের সাথে যোগাযোগ করেন, যাতে দেশের দল আরও শক্তিশালী হতে পারে। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, তার মতো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যখন ফেডারেশনের নেতৃত্বে আসেন, তখন সেই দলের উন্নতি হওয়াটা সময়ের ব্যাপার। তার জ্ঞান, অভিজ্ঞতা আর আন্তর্জাতিক পরিচিতি দক্ষিণ সুদানের বাস্কেটবলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন সত্যিকারের নেতা শুধু আদেশ দেয় না, বরং নিজে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়।

তরুণদের অনুপ্রেরণা: ভবিষ্যতের স্বপ্নদ্রষ্টা

ল্যুওল ডেং এর সবচেয়ে বড় অবদান হলো, তিনি দক্ষিণ সুদানের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছেন। যখন তারা দেখে যে, তাদের দেশেরই একজন ছেলে এনবিএতে খেলেছে এবং এখন দেশের বাস্কেটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তখন তাদের মধ্যেও স্বপ্ন দেখার সাহস জন্মায়। তিনি শুধু বাস্কেটবল শেখান না, শেখান কীভাবে কঠিন পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে হয়, কীভাবে স্বপ্ন দেখতে হয় এবং কীভাবে সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য নিরলস পরিশ্রম করতে হয়। আমার মনে হয়, তার গল্পটা হাজারো তরুণকে মাদকের পথ থেকে ফিরিয়ে এনে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলছে। তিনি নিজেই একজন জীবন্ত উদাহরণ যে, অধ্যবসায় আর সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যেকোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব। দক্ষিণ সুদানের মতো একটি দেশে যেখানে যুবকদের মধ্যে হতাশা অনেক বেশি, সেখানে ল্যুওল ডেং এর মতো একজন রোল মডেল থাকাটা খুবই জরুরি।

অলিম্পিক স্বপ্ন পূরণ: দক্ষিণ সুদানের জন্য এক নতুন দিগন্ত

দক্ষিণ সুদানের বাস্কেটবল দলের প্যারিস অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইটা ছিল এক ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা। ল্যুওল ডেং এর নেতৃত্বে এই দলটা এমন কিছু করে দেখিয়েছে, যা আগে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। একটি নতুন দেশ, যেখানে খেলাধুলার পরিকাঠামো এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি, সেখান থেকে অলিম্পিকের মতো বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ পাওয়াটা সত্যিই অভাবনীয় ছিল। যখন তাদের খেলার খবর দেখতাম, তখন আমার মনে একটা আলাদা আবেগ কাজ করত। তাদের প্রতিটা জয় ছিল পুরো জাতির জন্য এক বিরাট উৎসব। তারা হয়তো কোয়ার্টার ফাইনালের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি সার্বিয়ার কাছে হেরে, কিন্তু এই অল্প সময়ে তারা যা অর্জন করেছে, তা যে কোনো বড় দলের কাছেও ঈর্ষণীয়। তাদের এই যাত্রাটা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সঠিক নেতৃত্ব আর সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে সব অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। দক্ষিণ সুদানের এই দলটা পুরো বিশ্বে একটা শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে যে, তারা এখন আর শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত একটা দেশ নয়, বরং খেলাধুলায়ও তারা নিজেদের প্রমাণ করতে প্রস্তুত।

প্যারিস অলিম্পিকের পথে: এক ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা

প্যারিস অলিম্পিকের জন্য দক্ষিণ সুদানের পুরুষ বাস্কেটবল দলের যোগ্যতা অর্জন করার চেষ্টাটা ছিল একটি অসাধারণ গল্প। ফিবা বিশ্বকাপ ২০২৩-এ তাদের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। আফ্রিকা মহাদেশ থেকে সরাসরি অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়ার জন্য তাদের ছিল কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। যদিও তারা শেষ পর্যন্ত সার্বিয়ার কাছে হেরে গিয়েছিল এবং সেরা তৃতীয় দল হিসেবেও কোয়ার্টার ফাইনালের সুযোগ হাতছাড়া করে, তবুও তাদের এই অলিম্পিক অভিযান ছিল দেশের জন্য এক বিরাট অর্জন। দলটা যখন পোর্তোরিকোর বিপক্ষে দারুণ জয় দিয়ে আসর শুরু করেছিল, তখন সারা বিশ্বের নজর কেড়েছিল। তাদের খেলা দেখে মনে হয়েছিল, তারা শুধু বাস্কেটবল খেলছে না, খেলছে একটা জাতির সম্মান আর স্বপ্নকে বুকে নিয়ে। এই দলটার প্রতিটি খেলোয়াড় যেন তাদের দেশের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে নেমেছিল। আমার মনে হয়, এই ধরনের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়াটা শুধুমাত্র খেলার জয় নয়, এটা একটা জাতির আত্মমর্যাদা এবং পরিচয়ের জয়।

এক পরাজয়েও অদম্য: ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি

প্যারিস অলিম্পিকের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়লেও দক্ষিণ সুদানের বাস্কেটবল দলের স্বপ্ন কিন্তু থেমে নেই। সার্বিয়ার কাছে পরাজয় হয়তো তাদের সাময়িক হতাশ করেছে, কিন্তু এটা তাদের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের পথে একটা ছোট বাঁক মাত্র। ল্যুওল ডেং এবং তার দল এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা জানে, এই ধরনের অভিজ্ঞতা তাদের আরও শক্তিশালী করে তুলবে। আমার বিশ্বাস, এই দলটা আগামীতে আরও ভালো কিছু করবে। তারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কীভাবে এগিয়ে যেতে হয়। এই দলটা এখন আর শুধু দক্ষিণ সুদানের দল নয়, এটা আফ্রিকার অনেক পিছিয়ে পড়া দেশের জন্য একটা অনুপ্রেরণা। তাদের এই যাত্রাটা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, খেলার মাঠে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু আসল জয় হলো চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং কখনো হাল না ছাড়া। আমি তো মনে করি, এই সামান্য পিছিয়ে পড়াও তাদের নতুন করে ঝাঁপিয়ে পড়ার শক্তি যোগাবে।

Advertisement

ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি: পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ল্যুওলের ভাবনা

수단 유명 인물 - **NBA Star in Action:**
    A dynamic, high-definition image of Luol Deng in his prime as a professi...

ল্যুওল ডেং শুধু বর্তমান নিয়েই ভাবেন না, তার দৃষ্টি থাকে ভবিষ্যতের দিকে। তিনি জানেন যে, একটি জাতির উন্নতি করতে হলে তরুণ প্রজন্মের প্রতি বিনিয়োগ করাটা কতটা জরুরি। বাস্কেটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো, দক্ষিণ সুদানের শিশুদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরি করা। তিনি শুধুমাত্র সেরা খেলোয়াড় তৈরি করতে চান না, তিনি চান প্রতিটি শিশু যেন সুস্থ জীবন পায়, সুশিক্ষা গ্রহণ করে এবং সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে বেড়ে ওঠে। তার এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করে। আমার মনে হয়, একজন সত্যিকারের নেতা এমনই হন, যিনি শুধু নিজের ক্ষমতার সময়ে ভালো কিছু করেন না, বরং এমন একটা ভিত্তি তৈরি করে যান, যা আগামী বহু বছর ধরে জাতি ও প্রজন্মকে উপকৃত করে। ল্যুওল ডেং এর এই দূরদর্শিতা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।

শিক্ষা ও খেলাধুলার সমন্বয়: এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ

ল্যুওল ডেং এর একটি অন্যতম লক্ষ্য হলো খেলাধুলার সাথে শিক্ষাকে একীভূত করা। তিনি বিশ্বাস করেন, শুধু শারীরিক দক্ষতা থাকলেই চলে না, মানসিক বিকাশও সমানভাবে জরুরি। তাই তিনি এমন সব প্রোগ্রাম চালু করার চেষ্টা করছেন, যেখানে তরুণ খেলোয়াড়রা বাস্কেটবলের পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে পারবে। আমার মনে হয়, এটা একটা অসাধারণ উদ্যোগ। কারণ, একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার সবসময় দীর্ঘ হয় না, কিন্তু শিক্ষা সারা জীবন কাজে লাগে। দক্ষিণ সুদানে ইংরেজিকে যোগাযোগের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক স্তরে শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে সহায়ক। ল্যুওল চান, তার দেশের শিশুরা যেন বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সেজন্য তাদের জন্য উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি খেলাধুলাকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন, যাতে তরুণরা আরও বেশি করে স্কুলে যেতে আগ্রহী হয় এবং নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পথ বেছে নিতে পারে।

প্রতিভা অন্বেষণ ও বিকাশ: তরুণদের জন্য প্ল্যাটফর্ম

ল্যুওল ডেং সবসময়ই নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। তিনি জানেন যে, দক্ষিণ সুদানের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য সুপ্ত প্রতিভা। তার ফাউন্ডেশন এবং ফেডারেশন এই তরুণদের খুঁজে বের করে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক সুযোগ পেলে এই শিশুরা একদিন দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। আমার দেখা মতে, এরকম ছোটবেলায় প্রতিভা অন্বেষণের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বিভিন্ন ক্যাম্প এবং টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন, যেখানে শিশুরা নিজেদের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পায়। শুধু তাই নয়, যারা ভালো খেলে, তাদের জন্য বৃত্তি এবং উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেন। এই প্রক্রিয়াটা একদিকে যেমন দেশের বাস্কেটবলকে শক্তিশালী করছে, অন্যদিকে তেমনি হাজারো শিশুকে একটি নিশ্চিত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এই উদ্যোগগুলো দক্ষিণ সুদানের তরুণদের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ঢেউ এনেছে।

ল্যুওল ডেং ফাউন্ডেশন: মানবতার সেবা

ল্যুওল ডেং এর মানবিক দিকটা সত্যিই আমাকে দারুণভাবে টানে। এনবিএতে খেলে তিনি প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন, কিন্তু তিনি তা শুধু নিজের জন্য রাখেননি। নিজের দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি “ল্যুওল ডেং ফাউন্ডেশন” প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই ফাউন্ডেশন দক্ষিণ সুদানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং খেলাধুলা খাতে ব্যাপক কাজ করে চলেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে যেখানে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই কঠিন, সেখানে এই ধরনের একটি সংস্থা আলোর দিশা দেখাচ্ছে। আমি মনে করি, একজন সত্যিকারের সফল মানুষ তিনিই, যিনি নিজের সাফল্যের ফসল সবার সাথে ভাগ করে নেন। ল্যুওল ডেং সেই বিরল মানুষগুলোর একজন। তার ফাউন্ডেশন হয়তো রাতারাতি সব সমস্যা সমাধান করতে পারবে না, কিন্তু ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে তারা হাজার হাজার মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। এই কাজগুলো কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং মানুষকে একটা নতুন জীবন শুরু করার সাহস যোগায়।

ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য: সমাজের প্রতি অঙ্গীকার

ল্যুওল ডেং ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ সুদানের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। তারা বিশেষ করে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে জোর দেয়। ফাউন্ডেশনটি স্কুল নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, এবং স্বাস্থ্য ক্যাম্প আয়োজনের মতো কাজগুলো করে থাকে। তাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা এবং তাদের নেতৃত্ব গুণের বিকাশ ঘটানো। আমার মনে হয়, ফাউন্ডেশনটি শুধু দরিদ্রদের সাহায্য করছে না, বরং তাদের ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য একটি শক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং মানুষকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ফাউন্ডেশনটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথেও পার্টনারশিপ করে, যাতে তাদের কাজের পরিধি আরও বাড়ানো যায়।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অবদান: একটি সুস্থ সমাজ গড়ার স্বপ্ন

শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য, এই দুটি ক্ষেত্র যেকোনো সমাজের মেরুদণ্ড। ল্যুওল ডেং ফাউন্ডেশন এই দুটি ক্ষেত্রেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তারা বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুল প্রতিষ্ঠা করছে, যাতে যুদ্ধ এবং দারিদ্র্যের কারণে যেসব শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত, তারা স্কুলে যেতে পারে। এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের জন্য বই, খাতা, কলম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করে। স্বাস্থ্য খাতেও তাদের অবদান অনস্বীকার্য। তারা নিয়মিত স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করে, যেখানে সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং ওষুধ দেওয়া হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে স্বাস্থ্যসেবা সহজে পাওয়া যায় না, সেখানে তাদের এই উদ্যোগগুলো মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছে। আমার মনে হয়, এই ফাউন্ডেশনটি শুধু অর্থ দিয়ে সাহায্য করছে না, বরং একটি সুস্থ ও শিক্ষিত সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে।

ল্যুওল ডেং এর বাস্কেটবল যাত্রা ও তার মানবিক অবদানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে একটি সারণীতে তুলে ধরা হলো:

দিক বিবরণ
জন্ম ও শৈশব যুদ্ধবিধ্বস্ত দক্ষিণ সুদানে জন্ম, শরণার্থী হিসেবে জীবন শুরু, মিশর ও ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা।
এনবিএ ক্যারিয়ার ২০০৪ সালে শিকাগো বুলসে যোগদান, দুইবার এনবিএ অল-স্টার নির্বাচিত, দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ার।
অবসর পরবর্তী ভূমিকা দক্ষিণ সুদান বাস্কেটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ।
অলিম্পিক প্রচেষ্টা দক্ষিণ সুদান দলের প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়ার ঐতিহাসিক লড়াই, যদিও চূড়ান্ত যোগ্যতা অর্জন হয়নি।
ফাউন্ডেশন ল্যুওল ডেং ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলায় অবদান।
দৃষ্টিভঙ্গি দক্ষিণ সুদানের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত ও আশাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্য।
Advertisement

আমার দেখা ল্যুওল ডেং: অনুপ্রেরণার এক জীবন্ত গল্প

ল্যুওল ডেং এর পুরো জীবনটাই যেন একটা জীবন্ত অনুপ্রেরণার গল্প। যখন আমি তার সম্পর্কে পড়ি বা তার কাজ দেখি, তখন আমার মনে হয়, মানুষ চাইলে সত্যিই কী না করতে পারে! একজন উদ্বাস্তু শিশু থেকে শুরু করে বিশ্বের অন্যতম সেরা বাস্কেটবল লিগে তারকা হয়ে ওঠা, তারপর নিজের দেশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া – এই সবকিছুই এক অসাধারণ মনের পরিচয়। আমার তো মনে হয়, আমরা অনেকেই জীবনে ছোটখাটো ব্যর্থতাতেই হাল ছেড়ে দিই, কিন্তু ল্যুওল ডেং এর গল্পটা আমাদের শেখায় যে, বড় স্বপ্ন দেখতে হলে বড় সাহসও লাগে। তার এই পথচলায় হয়তো অনেক কঠিন মুহূর্ত এসেছে, কিন্তু তিনি কখনো হার মানেননি। তার গল্পটা আমাকে শেখায়, জীবন যতই কঠিন হোক না কেন, স্বপ্ন দেখা বন্ধ করা যাবে না। তার মতো মানুষেরা শুধু খেলাধুলায় নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যান।

শুধু খেলোয়াড় নয়, একজন নায়ক

আমার চোখে ল্যুওল ডেং শুধু একজন বাস্কেটবল খেলোয়াড় নন, তিনি একজন সত্যিকারের নায়ক। তার মতো মানুষদের জন্যই পৃথিবীটা সুন্দর। তিনি কেবল নিজের ব্যক্তিগত সাফল্য নিয়েই ব্যস্ত থাকেননি, বরং তার দেশের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য একটা আশার আলো হয়ে উঠেছেন। দক্ষিণ সুদানের শিশুরা যখন তাকে দেখে, তখন তারা শুধু একজন বাস্কেটবল তারকাকে দেখে না, দেখে একজন স্বপ্নদ্রষ্টাকে, একজন পথপ্রদর্শককে। তিনি তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন যে, প্রতিকূলতা যতই কঠিন হোক না কেন, পরিশ্রম আর সততা থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। এই বিষয়টা আমাকে দারুণভাবে ছুঁয়ে যায়। তার মতো মানুষেরাই তো সমাজে প্রকৃত অর্থে পরিবর্তন নিয়ে আসেন, তাই না? তারা শুধু নিজেদের নয়, পুরো সমাজের জন্য ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখেন এবং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করেন।

অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সাফল্যের মন্ত্র

ল্যুওল ডেং এর জীবন থেকে শেখার মতো অনেক কিছু আছে। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় সংকল্পই তাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, আপনি কোথা থেকে এসেছেন, সেটা বড় কথা নয়; বড় কথা হলো আপনি কোথায় যেতে চান এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী। তার সাফল্যের মন্ত্রটা খুব সহজ – কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস আর দেশের প্রতি ভালোবাসা। আমার মনে হয়, আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই ল্যুওল ডেং এর মতো একজন রোল মডেল থাকা উচিত, যিনি আমাদের জীবনের প্রতিটি ধাপে অনুপ্রাণিত করবেন। তার এই গল্পটা যেন একটা নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে, যেখানে যুদ্ধ আর দারিদ্র্যের অন্ধকার পেরিয়ে আলো ঝলমলে এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা সম্ভব। আমি তো মনে করি, ল্যুওল ডেং এর এই যাত্রা আমাদের সবার জন্য এক চিরন্তন অনুপ্রেরণা।

글을মাচি며

ল্যুওল ডেং এর জীবন কাহিনী আমাদের সবাইকে একটা কঠিন অথচ সুন্দর বার্তা দেয়। তার পথচলা শুধু একজন বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের সাফল্য নয়, এটি মানবতা, নেতৃত্ব আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যুদ্ধ, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার মাঝেও কীভাবে নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা যায় এবং অন্যের জন্য কিছু করা যায়, ল্যুওল ডেং সেটাই দেখিয়েছেন। তার এই অসাধারণ জীবন সত্যিই আমাদের অনেকের জন্যই এক অফুরন্ত অনুপ্রেরণার উৎস। আমি যখন তার সম্পর্কে ভাবি, তখন মনে হয়, পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা শুধু নিজেদের জন্য বাঁচেন না, বরং পুরো সমাজের জন্য একটা নতুন দিশা তৈরি করে দেন।

Advertisement

알아두면 쓸মো 있는 정보

১. ল্যুওল ডেং এর জন্ম দক্ষিণ সুদানে, এবং তিনি শিশু বয়সেই যুদ্ধ ও শরণার্থী জীবনের অভিজ্ঞতা লাভ করেন।

২. তিনি একজন সফল এনবিএ খেলোয়াড় হিসেবে শিকাগো বুলসের হয়ে প্রায় এক দশক ধরে খেলেছেন এবং দুইবার এনবিএ অল-স্টার নির্বাচিত হয়েছেন।

৩. বাস্কেটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি দক্ষিণ সুদান বাস্কেটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দেশের বাস্কেটবলকে এগিয়ে নিয়ে যান।

৪. তার নেতৃত্বে দক্ষিণ সুদান দল প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকে খেলার ঐতিহাসিক সুযোগ পায়, যা দেশের জন্য এক বিরাট অর্জন।

৫. ল্যুওল ডেং ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি দক্ষিণ সুদানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং খেলাধুলা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, যা হাজারো মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।

중요 사항 정리

ল্যুওল ডেং একজন উদ্বাস্তু শিশু থেকে বিশ্বমানের খেলোয়াড়, এবং তারপর একজন মানবিক নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার অদম্য সংগ্রাম, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজ করার মানসিকতা তাকে একজন সত্যিকারের নায়কে পরিণত করেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, প্রতিকূলতা যতই হোক না কেন, দৃঢ় সংকল্প আর আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। তার জীবন আমাদের শেখায়, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্যই সব নয়, বরং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং অন্যের জন্য কিছু করাই জীবনের আসল সার্থকতা।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: ল্যুওল ডেং-এর উদ্বাস্তু থেকে NBA তারকা হয়ে ওঠার পথ দক্ষিণ সুদানের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

উ: ল্যুওল ডেং-এর জীবন কাহিনী দক্ষিণ সুদানের জন্য শুধু একজন ক্রীড়াবিদের সাফল্য নয়, এটি আশার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে শরণার্থী হিসেবে পালিয়ে আসা একটি ছেলে যখন বিশ্বসেরা বাস্কেটবল লিগ NBA-তে নিজের জায়গা করে নেয়, তখন তা লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বপ্নকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে। তার এই যাত্রা দক্ষিণ সুদানের তরুণ প্রজন্মকে শিখিয়েছে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যদি মনের জোর থাকে এবং লক্ষ্য স্থির রাখা যায়, তাহলে যেকোনো স্বপ্নই পূরণ করা সম্ভব। আমার মনে হয়, তার এই গল্পটা এতটাই শক্তিশালী যে, এটি কেবল খেলাধুলার গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় আত্মমর্যাদা এবং পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। যখনই আমি তার কথা ভাবি, তখনই মনে হয়, আহা!
এমন একজন অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব যদি আমাদের সবার জীবনে থাকত!

প্র: অবসরের পর ল্যুওল ডেং দক্ষিণ সুদানের বাস্কেটবলের জন্য কী কী বিশেষ অবদান রেখেছেন?

উ: সত্যি বলতে, ল্যুওল ডেং তার অবসরের পর যা করেছেন, তা তার খেলার দিনের সাফল্যের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, বরং আরও বেশি। অবসর নেওয়ার পর তিনি দক্ষিণ সুদান বাস্কেটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন, যা প্রমাণ করে খেলার প্রতি তার আবেগ কতটা গভীর। তার নেতৃত্বেই দক্ষিণ সুদান জাতীয় বাস্কেটবল দল প্রথমবারের মতো অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ভাবা যায়, একটা নতুন দেশ, যেখানে অনেক মৌলিক সুযোগ-সুবিধা এখনো অপ্রতুল, সেখানে তিনি এমন একটা অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছেন!
তার এই অবদান শুধু খেলার জয় নয়, এটি দক্ষিণ সুদানের জন্য বিশ্ব দরবারে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার একটা সুযোগ। আমার নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, একজন দৃঢ়চেতা নেতা কীভাবে পুরো একটা জাতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, ল্যুওল ডেং ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছেন। এই বিষয়টা যখন শুনি, আমার মনটা খুশিতে ভরে যায়!

প্র: ল্যুওল ডেং-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী এবং দক্ষিণ সুদানের বাস্কেটবলের ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে?

উ: ল্যুওল ডেং-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা খুবই পরিষ্কার – দক্ষিণ সুদানের বাস্কেটবলকে বিশ্ব মঞ্চে আরও প্রতিষ্ঠিত করা এবং তরুণ প্রতিভাদের জন্য সুযোগ তৈরি করা। অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করাটা তো কেবল শুরু। আমার মনে হয়, তিনি শুধু খেলোয়াড় তৈরি করছেন না, তিনি একটা পুরো ইকোসিস্টেম তৈরি করছেন যাতে দক্ষিণ সুদানের ছেলেরা বাস্কেটবলকে পেশা হিসেবে নিতে পারে এবং বিশ্বমানের খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে। তার লক্ষ্য হলো, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। তার মতো একজন অভিজ্ঞ এবং দূরদর্শী নেতা যখন সামনে থাকেন, তখন আমি নিশ্চিত যে দক্ষিণ সুদানের বাস্কেটবলের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। এটা শুধু একটা স্বপ্ন নয়, এটা একটা বাস্তব রূপ নিচ্ছে, যা আমার মতো অসংখ্য মানুষকে আশাবাদী করে তোলে!
তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন, যা সত্যিই বিরল।

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement