শিক্ষা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ, ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। একটি শিশুর সোনালী ভবিষ্যত গড়ে তোলার মূল ভিত্তিই হলো মানসম্মত শিক্ষা। কিন্তু এমন কি কখনো ভেবে দেখেছেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই শিশুরা এই মৌলিক অধিকারটুকু থেকেও বঞ্চিত?

বিশেষ করে সুদানের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান হাল কী, তা শুনলে সত্যিই মন ভার হয়ে আসে। আমি নিজেও যখন এসব তথ্য ঘেঁটে দেখি, তখন অবাক হয়ে যাই যে কীভাবে একটি পুরো প্রজন্ম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানকার শিশুরা যেখানে বই হাতে শ্রেণীকক্ষে থাকার কথা, সেখানে তারা বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছে।চলমান সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্থিরতা আর প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে সুদানের সরকারি স্কুলগুলো আজ এক নাজুক পরিস্থিতির সম্মুখীন। শিক্ষকরাও চরম প্রতিকূলতার মধ্যে তাদের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন। এই কঠিন পরিস্থিতি শুধু বর্তমানকেই নয়, দেশটির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। আমি মনে করি, এই সমস্যাগুলো সম্পর্কে আমাদের জানা খুবই জরুরি, কারণ প্রতিটি শিশুরই একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে। আসুন, সুদানের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরের চিত্রটি আজ আমরা গভীরভাবে জেনে নিই।
স্বপ্ন ভাঙার গল্প: শিক্ষার আঙিনায় যুদ্ধ আর অনিশ্চয়তা
শিক্ষার অধিকার: একটি মৌলিক চাহিদা
সত্যি বলতে কি, যখনই আমি সুদানের শিশুদের নিয়ে ভাবি, আমার মনটা কেমন যেন ভারী হয়ে যায়। আমরা যারা মোটামুটি সচ্ছল পরিবেশে বড় হয়েছি, তারা হয়তো কল্পনাও করতে পারি না যে শিক্ষার মতো একটা মৌলিক অধিকারের জন্য লড়াই করতে হয়। একটা শিশু, যার হাতে বই থাকার কথা, সে কিনা বন্দুকের ভয় আর বেঁচে থাকার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে! এটা কোনো কল্পকাহিনী নয়, সুদানের বহু শিশুর প্রতিদিনের বাস্তবতা। আমি নিজে যখন এসব খবর দেখি বা পড়ি, তখন মনে হয়, আচ্ছা, আমরা কি যথেষ্ট করছি এদের জন্য? এই শিশুরা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখবে কিভাবে, যখন তাদের বর্তমানটাই অন্ধকারে ঢাকা? শিক্ষার আলোয় যাদের জীবন আলোকিত হওয়ার কথা ছিল, তাদের সেই পথটাই বন্ধ হয়ে আছে প্রতিনিয়ত। একটা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যদি শিক্ষাহীন থাকে, তাহলে সেই দেশটা কীভাবে এগোবে, বলুন তো?
সুদানের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা সত্যিই ভয়াবহ। বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাত, অস্থিরতা আর দারিদ্র্য সেখানকার স্কুলগুলোকে একরকম পঙ্গু করে দিয়েছে। অনেক স্কুল বোমা হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে, অনেকগুলো আবার আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভাবুন তো, যেখানে শিশুদের হাসি-খুশি কলরবে মুখরিত থাকার কথা, সেখানে এখন শুধুই কান্নার শব্দ আর হাহাকার। আমার তো মনে হয়, এই পরিস্থিতি শুধু সুদানের একার সমস্যা নয়, এটা আমাদের সবার জন্য একটা বড় চিন্তার বিষয়। কারণ একটা শিশু যখন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়, তখন শুধু তার জীবনই নয়, পুরো মানবতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমি নিজে এসব নিয়ে ভাবতে বসলে প্রায়ই গভীর হতাশায় ভুগি, কারণ এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে যেন আমরা যথেষ্ট সরব নই।
সংঘাতের বলি: বন্ধ স্কুল, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
যখন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন সবার আগে যে জিনিসটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা হলো শিশুদের পড়ালেখা। সুদানের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সংঘাতের কারণে অসংখ্য স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে, কোনোটা পুরোপুরি ভেঙে গেছে, আবার কোনো কোনো স্কুল দখল করে নিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। আমি ভাবি, একটা বাচ্চা যখন সকালে স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে হাসিমুখে বের হতো, তখন তার মনে কত স্বপ্নই না ছিল! এখন সেই স্বপ্নগুলো কোথায় হারিয়ে গেছে? স্কুল বন্ধ মানে শুধু ক্লাস বন্ধ নয়, এর মানে হচ্ছে শিশুদের মন থেকে হাসি উধাও হয়ে যাওয়া, তাদের শৈশবটাই অন্ধকারে ডুবে যাওয়া। অনেক পরিবারকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে, আর এর ফলে শিশুরা তাদের স্কুল, বন্ধু-বান্ধব, এমনকি তাদের পরিচিত পরিবেশ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একটা শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তার সবই যেন তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই যন্ত্রণাটা আমাকে খুব পোড়ায়।
যুদ্ধ শুধু মানুষের জীবনই কেড়ে নেয় না, এটা মানুষের ভবিষ্যৎকেও হত্যা করে। সুদানের লাখ লাখ শিশু আজ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। লাখ লাখ শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। এর ফলে তাদের মধ্যে অনেকেই বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, বা সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যোগদানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এই চিত্রটা যখন আমার চোখের সামনে ভাসে, তখন আমি সত্যিই শিউরে উঠি। একটা প্রজন্মকে যদি আমরা শিক্ষার সুযোগ না দিই, তাহলে আগামীতে তাদের জীবন কতটা অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে, সেটা ভাবতেও গা কাঁটা দেয়। আমি মনে করি, এই সমস্যাটা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আরও জোরালো ভূমিকা রাখা উচিত। কারণ আজকের এই শিশুরা যদি সঠিক শিক্ষা না পায়, তাহলে আগামীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। আমাদের সবারই এই বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার সময় এসেছে।
শ্রেণিকক্ষের বদলে অস্ত্রের ঝনঝনানি: স্কুল বন্ধের নেপথ্যে
অবকাঠামোর অভাব ও শিক্ষকদের চ্যালেঞ্জ
আপনারা কি জানেন, সুদানে অনেক সরকারি স্কুলেই বসার মতো বেঞ্চ নেই, এমনকি ছাদটাও ঠিকঠাক নেই! বিদ্যুৎ বা পানীয় জলের তো প্রশ্নই আসে না। আমি যখন এসব শুনি, তখন ভাবি, আমাদের ছোটবেলায় যদি এমন একটা পরিবেশে পড়তে হতো, তাহলে কী হতো? হয়তো আমরা ক্লাস করার আগ্রহই হারিয়ে ফেলতাম। এই অভাবগুলো শুধু অবকাঠামোগত নয়, এটা শিক্ষার প্রতি শিশুদের আগ্রহকেও কমিয়ে দেয়। অনেক স্কুলেই পর্যাপ্ত বইপত্র নেই, ল্যাবরেটরির সরঞ্জাম নেই, এমনকি সাধারণ শিক্ষা উপকরণও নেই। এর ফলে শিক্ষকরা চাইলেও মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারছেন না। একজন শিক্ষক হিসেবে আমার মনটা খুব খারাপ লাগে যখন দেখি, তাদের এত চেষ্টা সত্ত্বেও পরিস্থিতির কারণে তারা সফল হতে পারছেন না।
শিক্ষকদের কথা আর কী বলব! চরম প্রতিকূলতার মধ্যে তারা তাদের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন। মাসের পর মাস বেতন পান না, কিন্তু তবুও তারা চেষ্টা করেন শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে, তাদের কিছু শেখাতে। অনেক শিক্ষককে আবার পালিয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর সাথে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরতে হয়েছে। এই পরিস্থিতি তাদের ব্যক্তিগত জীবনকেও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, শিক্ষকরাই একটা জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু সুদানে সেই মেরুদণ্ডটাই যেন ভেঙে পড়ার উপক্রম। তাদের এই নীরব সংগ্রাম, তাদের এই আত্মত্যাগ আমাকে অনুপ্রাণিত করে, আবার একই সাথে কষ্টও দেয়। তাদের প্রতি আমাদের স্যালুট জানানো উচিত।
শিক্ষার প্রতি অভিভাবকদের অনীহা ও নিরাপত্তাহীনতা
যুদ্ধ আর দারিদ্র্য যখন মানুষকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে, তখন শিক্ষা আর তাদের কাছে অগ্রাধিকার থাকে না। অনেক অভিভাবকই মনে করেন, যেখানে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোটে না, সেখানে স্কুলে পাঠানোর খরচ জোগানো অসম্ভব। আমি তাদের এই মানসিকতাটা পুরোপুরি বুঝতে পারি। যখন জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন আসে, তখন পড়ালেখাটা অনেক পেছনে চলে যায়। অনেকেই বাধ্য হয়ে তাদের সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই কাজে লাগিয়ে দেন পরিবারের খরচ জোগানোর জন্য। মেয়েরা প্রায়শই বাল্যবিবাহের শিকার হয়, কারণ বাবা-মা মনে করেন, এতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এই ধরনের পরিস্থিতি দেখলে আমার মনটা কেমন যেন ছটফট করে ওঠে। একটি শিশুর সোনালি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার স্বপ্ন যেখানে অধরা, সেখানে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া যেন তাদের আর কোনো উপায় থাকে না।
নিরাপত্তাহীনতাও একটি বড় কারণ। মা-বাবা কি করে তাদের শিশুদের স্কুলে পাঠাবেন, যখন তারা জানেন না যে স্কুল থেকে তাদের সন্তানরা অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসবে কিনা? সশস্ত্র হামলা, অপহরণ, এবং বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার তো মনে হয়, যেকোনো বাবা-মায়ের জন্য এর চেয়ে বড় দুশ্চিন্তা আর কিছু হতে পারে না। এই ভয় আর অনিশ্চয়তা শিশুদের স্কুল থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে এবং তাদের শিক্ষাজীবনকে আরও হুমকির মুখে ফেলছে। একটা নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া শিক্ষা কখনোই বিকশিত হতে পারে না, আর সুদানে সেই নিরাপদ পরিবেশটাই আজ অনুপস্থিত। এই অবস্থাটা সত্যিই আমার মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে, কারণ আমি নিজে একজন মা হিসেবে এই ভয়টা খুব ভালোভাবে অনুভব করতে পারি।
শিক্ষকদের নীরব সংগ্রাম: প্রতিকূলতার মাঝেও জ্ঞানের আলো
বেতনহীনতা ও পেশাগত ঝুঁকি
আমি যখন সুদানের শিক্ষকদের কথা শুনি, তখন তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যায়। ভাবুন তো, মাসের পর মাস বেতন নেই, অথচ তারা দিনের পর দিন স্কুলে যাচ্ছেন, শিশুদের পড়াচ্ছেন! এটা কি শুধুই পেশার প্রতি দায়িত্ববোধ? নাকি এর চেয়েও বড় কিছু? আমি মনে করি, এটা তাদের ভেতরকার সেই আলোর প্রতিফলন, যা তারা শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান। তাদের ব্যক্তিগত জীবন চরম দুর্দশার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। অনেকে নিজেদের পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, কিন্তু তবুও তারা হাল ছাড়ছেন না। এই অবস্থায়ও তারা চেষ্টা করছেন শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোটাতে, তাদের মনে আশার আলো জাগাতে। আমার তো মনে হয়, তাদের এই আত্মত্যাগ আমাদের সবার জন্য একটা বড় অনুপ্রেরণা। আমরা হয়তো তাদের পাশে দাঁড়াতে পারছি না, কিন্তু তাদের এই সংগ্রামকে অন্তত স্বীকৃতি দিতে পারি।
শিক্ষকতা একটি মহান পেশা, কিন্তু সুদানে এটি যেন একপ্রকার ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় পরিণত হয়েছে। অনেক শিক্ষককে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কাজ করতে হয়, যেখানে তাদের জীবনের ঝুঁকি থাকে প্রতিনিয়ত। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হুমকির মুখে পড়তে হয়, এমনকি অনেককে অপহরণ বা হত্যার শিকারও হতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেও তারা যখন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়ান, তখন মনে হয়, তারা যেন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জ্ঞানের আলো বিলিয়ে দিচ্ছেন। আমি তো মনে করি, তাদের এই সাহস আর আত্মত্যাগ সত্যিই অতুলনীয়। তারা শুধু পড়াচ্ছেন না, তারা শিশুদের মনে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনছেন, যা হয়তো একদিন সুদানের অন্ধকার দূর করবে। তাদের এই নীরব সংগ্রাম, এই দৃঢ়তা আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
বিকল্প শিক্ষার পথ ও সৃজনশীল সমাধান
এই প্রতিকূলতার মধ্যেও সুদানের কিছু সাহসী শিক্ষক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হাল ছাড়েননি। তারা চেষ্টা করছেন বিকল্প উপায়ে শিশুদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দিতে। আমি নিজে যখন দেখি যে, কোনো খোলা মাঠে বা কোনো অস্থায়ী তাঁবুতে শিশুরা গোল হয়ে বসে পড়ছে, তখন আমার চোখে জল এসে যায়। এই দৃশ্যটা একদিকে যেমন বেদনার, অন্যদিকে তেমনি আশার। শিক্ষকরা নিজেদের উদ্যোগে পাঠদান করছেন, কেউ কেউ রেডিও বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমার মনে হয়, এই ছোট ছোট প্রচেষ্টাগুলোই একদিন বড় পরিবর্তন আনবে। তারা দেখাচ্ছেন যে, প্রতিকূলতা যত বড়ই হোক না কেন, শিক্ষার আলো নিভিয়ে দেওয়া যায় না।
এই সৃজনশীল সমাধানগুলো শুধু বর্তমান প্রজন্মকেই সাহায্য করছে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নতুন পথ তৈরি করছে। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এবং বিভিন্ন দাতা দেশগুলোর উচিত এই ধরনের উদ্যোগগুলোকে আরও বেশি সমর্থন করা। কারণ শিক্ষার জন্য এই ধরনের লড়াই, এই ধরনের উদ্ভাবনী পদ্ধতি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এটা প্রমাণ করে যে, মানবতা এখনো হার মানেনি, এবং মানুষ এখনো একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। আমার মনটা ভরে যায় যখন আমি দেখি, এত কষ্টের মধ্যেও কিছু মানুষ আলোর মশাল জ্বালিয়ে রেখেছে।
ভবিষ্যতের ভিত্তি নড়বড়ে: শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
হারিয়ে যাওয়া প্রজন্ম: সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি
একটা প্রজন্ম যদি শিক্ষাহীন থাকে, তাহলে সেই দেশের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি? সুদানের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নটা আমাকে খুব ভাবিয়ে তোলে। লাখ লাখ শিশু যদি পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে তারা ভবিষ্যতে কী করবে? তারা কি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে? আমি তো মনে করি, শিক্ষিত না হলে তাদের জন্য ভালো কাজের সুযোগ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর ফলে সমাজে বেকারত্ব বাড়বে, দারিদ্র্য আরও গভীর হবে। এটা শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটা একটা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেবে। একটা দেশের উন্নতির জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো তার মানবসম্পদের উন্নয়ন। কিন্তু সুদানে সেই মানবসম্পদই যেন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই চিত্রটা আমাকে সত্যিই খুব কষ্ট দেয়।
শিক্ষার অভাবে একটি সমাজ থেকে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির চর্চা কমে যায়। এর ফলে কুসংস্কার ও ভুল ধারণা সমাজে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিশুরা যখন স্কুলে যায় না, তখন তারা সামাজিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা বা সহমর্মিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শিখতে পারে না। আমি নিজে দেখেছি, কিভাবে শিক্ষা মানুষের জীবনকে বদলে দিতে পারে, কিভাবে একজন শিক্ষিত মানুষ তার পরিবার ও সমাজের জন্য আলো হয়ে ওঠে। কিন্তু সুদানে সেই আলোর পথটাই যেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব হবে ভয়াবহ, যা হয়তো শত বছরেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। আমার মনে হয়, এই সমস্যাটা নিয়ে আমাদের আরও বেশি সোচ্চার হওয়া উচিত।
সহিংসতার চক্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাধা
যখন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়, তখন তাদের মধ্যে হতাশা আর ক্ষোভ জন্মাতে শুরু করে। এই হতাশা তাদের সহিংসতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আমি তো মনে করি, যারা শিক্ষা পায় না, তাদের সহজে ভুল পথে চালিত করা যায়। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে শিশুদের তাদের দলে ভেড়াচ্ছে, যা সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। এটা যেন একটা দুষ্টচক্রের মতো। শিক্ষা নেই তো ভবিষ্যৎ নেই, ভবিষ্যৎ নেই তো হতাশা, হতাশা থেকে সহিংসতা, আর সহিংসতা থেকে আবার শিক্ষার পথ বন্ধ। এই চক্রটা ভাঙতে না পারলে সুদানে কখনোই স্থায়ী শান্তি আসবে না।
শিক্ষাই পারে মানুষকে সহনশীলতা শেখাতে, মানুষকে উদারতা শেখাতে। যখন শিশুরা একসঙ্গে স্কুলে যায়, তখন তারা একে অপরের প্রতি সম্মান করতে শেখে, বিভিন্ন সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয়। এর ফলে সমাজের মধ্যে সম্প্রীতি তৈরি হয়। কিন্তু সুদানের শিশুরা যখন এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তখন তাদের মধ্যে বিভেদ আর অবিশ্বাস আরও বাড়ছে। আমি নিজে বিশ্বাস করি, শিক্ষা হলো শান্তির চাবিকাঠি। যদি আমরা সুদানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে সবার আগে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। এই বিষয়টা নিয়ে আমাদের সবারই গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত, কারণ এর ওপরই সুদানের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
অর্থনৈতিক সংকট ও শিক্ষার বিভীষিকা
পরিবারের আর্থিক চাপ ও শিক্ষার ব্যয়
সুদানের অর্থনৈতিক সংকট এতটাই তীব্র যে, সাধারণ মানুষের জীবন ধারণ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি যখন ভাবি, সেখানে একটি পরিবারকে খাবার, বাসস্থান আর চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়, তখন তারা তাদের সন্তানদের শিক্ষার পেছনে কিভাবে খরচ করবে? সরকারি স্কুলগুলোতেও কিছু খরচ থাকে, যেমন বইপত্র, ইউনিফর্ম, বা অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ। এই সামান্য খরচটুকু জোগানোও অনেক পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয় না। অনেক সময় বাবা-মা বাধ্য হয়ে তাদের সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে কাজে লাগিয়ে দেন পরিবারের খরচ জোগানোর জন্য, যাতে পরিবারের আয়ে কিছুটা সাহায্য হয়। এটা তাদের জন্য একটা কঠিন সিদ্ধান্ত, যা নিতে তারা বাধ্য হন। আমার মনটা খুবই খারাপ লাগে যখন আমি শুনি যে, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার পরিবর্তে তাকে ছোটবেলা থেকেই অর্থ উপার্জনের জন্য জীবন সংগ্রামে নামতে হচ্ছে। এই কঠিন পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তোলার জন্য, আসুন একটি ছকের মাধ্যমে সুদানের শিক্ষা ব্যবস্থার কিছু প্রধান চ্যালেঞ্জ দেখে নিই:
| চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্র | সুদানে প্রভাব |
|---|---|
| চলমান সংঘাত | অসংখ্য স্কুল ধ্বংস, বন্ধ বা আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে। |
| অর্থনৈতিক অস্থিরতা | পরিবারের দারিদ্র্য বৃদ্ধি, শিক্ষার ব্যয়ভার মেটানো কঠিন, শিশুরা বাল্যশ্রম বা বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে। |
| অবকাঠামোগত অভাব | স্কুল ভবন, শ্রেণিকক্ষ, পানীয় জল, স্যানিটেশন ও বিদ্যুৎ সুবিধার অভাব, মানসম্মত শিক্ষা ব্যাহত। |
| শিক্ষকদের সংকট | কম বেতন বা বেতনহীনতা, নিরাপত্তার অভাব, প্রশিক্ষিত শিক্ষকের স্বল্পতা, পেশাগত অনিশ্চয়তা। |
| শিক্ষা উপকরণের অভাব | বইপত্র, খাতা, কলম, ল্যাব সরঞ্জাম সহ মৌলিক শিক্ষা উপকরণের অপ্রতুলতা। |
| নিরাপত্তাহীনতা | স্কুলে যেতে ভয়, অপহরণ ও সহিংসতার ঝুঁকি, অভিভাবকদের উদ্বেগ। |
মুদ্রাস্ফীতি এতটাই বেশি যে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেক কমে গেছে। জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া, কিন্তু আয় বাড়েনি। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা যেন একটি বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমি তো মনে করি, একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটা চরম দুর্ভাগ্যজনক। সরকার যদি এই অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে না পারে, তাহলে শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার থেকে আরও বেশি শিশু বঞ্চিত হবে। এর ফলে একটি শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তোলার স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে। এই ধরনের খবর যখন আমি শুনি, তখন আমার ভেতরের মানুষটা কেঁদে ওঠে, কারণ আমি জানি শিক্ষার গুরুত্ব কতটা অপরিসীম।
সরকারি বরাদ্দ ও দুর্নীতির প্রভাব
একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বরাদ্দ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সুদানে সরকারি বাজেট এতটাই সীমিত যে, শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা সম্ভব হচ্ছে না। যেটুকু বরাদ্দ হয়, তারও একটা বড় অংশ সঠিকভাবে ব্যবহার হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতির কারণে অনেক সময় শিক্ষার জন্য আসা অর্থ প্রকৃত কাজে লাগে না, বরং অন্য খাতে চলে যায় বা অপচয় হয়। আমি যখন এই ধরনের খবর শুনি, তখন মনে হয়, এটি কতটা অন্যায়! শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন এমন খেলা করা হচ্ছে?
সরকার যদি শিক্ষার পেছনে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করে, তাহলে অবকাঠামো উন্নত হবে না, শিক্ষকরা বেতন পাবেন না, আর শিক্ষা উপকরণের অভাব দূর হবে না। এর ফলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাই ভেঙে পড়বে। আমার তো মনে হয়, দুর্নীতি একটি দেশের উন্নতির সবচেয়ে বড় বাধা। যদি এই দুর্নীতি দূর করা না যায়, তাহলে যত সাহায্যই আসুক না কেন, তা শিক্ষার মতো মৌলিক ক্ষেত্রে পৌঁছাবে না। আমি মনে করি, এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারি আরও বাড়ানো উচিত, যাতে শিক্ষার জন্য আসা প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়। এই পরিস্থিতিটা সত্যিই আমার মনকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।
আন্তর্জাতিক সাহায্যের হাত: কতটুকু পৌঁছাচ্ছে?
দাতা সংস্থাগুলোর ভূমিকা ও সীমাবদ্ধতা
সুদানের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, যেমন ইউনিসেফ, ওয়ার্ল্ড ভিশন, সেভ দ্য চিলড্রেন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তারা স্কুল নির্মাণ, শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিশুদের জন্য পুষ্টি সহায়তা প্রদান করে থাকে। আমি নিজে যখন দেখি যে, কিছু সংস্থা চেষ্টা করছে এই সংকটময় পরিস্থিতিতেও শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখতে, তখন আমার মনে আশার সঞ্চার হয়। তাদের এই প্রচেষ্টাগুলো প্রশংসনীয়, কারণ তারা না থাকলে হয়তো পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো। অনেক সময় তারা অস্থায়ী স্কুল তৈরি করে, যেখানে শিশুরা অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও পড়ালেখার সুযোগ পায়। এই ধরনের উদ্যোগগুলো সত্যিই খুব জরুরি, কারণ এর মাধ্যমে অন্তত কিছু শিশু শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরে আসার সুযোগ পায়।
তবে এই সাহায্যগুলোরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সাহায্য পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় দাতা সংস্থাগুলোর কর্মীরা হামলার শিকার হন, অথবা তাদের সাহায্য সামগ্রী লুট হয়ে যায়। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেও সাহায্য সঠিকভাবে পৌঁছাতে দেরি হয়। আমি মনে করি, এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু অর্থ দিলেই হবে না, সেই অর্থ যেন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়, তার জন্য শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা থাকা জরুরি। আমার তো মনে হয়, আন্তর্জাতিক মহলকে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে এবং সুদানের সরকারের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর পরিকল্পনা
আন্তর্জাতিক সাহায্য তখনই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়, যখন সুদানের সরকারের পক্ষ থেকে শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কার্যকর পরিকল্পনা থাকে। আমি নিজে দেখেছি, অনেক সময় দাতা দেশগুলো অর্থ দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে সঠিক কর্মপরিকল্পনার অভাবে সেই অর্থ পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় না। একটি স্থিতিশীল এবং শান্তিপ্রিয় পরিবেশ ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা প্রায় অসম্ভব। যতক্ষণ না দেশে শান্তি ফিরে আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত শিশুদের স্কুলে ফেরানো কঠিন হবে। তাই, আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক মহলের উচিত সুদানে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আরও জোরালো ভূমিকা রাখা।
সরকারকে শিক্ষার প্রতি আরও বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু জরুরি সাহায্য দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ থাকা প্রয়োজন। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে বিনিয়োগ করা অপরিহার্য। আমার মনে হয়, এই বিষয়গুলো নিয়ে যদি সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করে, তাহলেই কেবল সুদানের শিশুরা একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারবে। এই চিন্তাটা আমার মনে একটা গভীর আশার আলো জ্বেলে তোলে, কারণ প্রতিটি শিশুরই সুন্দর ভবিষ্যৎ পাওয়ার অধিকার আছে।
আমাদের ভূমিকা: একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য
সচেতনতা বৃদ্ধি ও সমর্থন
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমাদের মতো সাধারণ মানুষেরও এই বিষয়ে অনেক কিছু করার আছে। হয়তো আমরা সরাসরি সুদানে গিয়ে সাহায্য করতে পারব না, কিন্তু আমরা অন্তত এই সমস্যাগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পারি। আমি যখন দেখি, অনেক মানুষ জানেই না যে, সুদানের শিশুরা কতটা কষ্টে আছে, তখন আমার খুব খারাপ লাগে। আমরা আমাদের বন্ধু, পরিবার, এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিতে পারি। যত বেশি মানুষ জানবে, তত বেশি মানুষের মন ছুঁয়ে যাবে এই করুণ বাস্তবতা। আমার তো মনে হয়, সচেতনতা হলো পরিবর্তনের প্রথম ধাপ।
আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে সমর্থন করতে পারি, যারা সুদানের শিশুদের জন্য কাজ করছে। অল্প হলেও আর্থিক সহায়তা বা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি ছোট অবদানই একদিন বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আমি নিজেও চেষ্টা করি আমার সাধ্যমতো কিছু করতে। কারণ প্রতিটি শিশুরই একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে, আর সেই স্বপ্নকে বাস্তব করার দায়িত্ব আমাদের সবার। এই ধরনের মানবিক উদ্যোগগুলো আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করে এবং আমি চাই যে আমার পাঠকরাও এই বিষয়ে আরও বেশি সংবেদনশীল হন।
শিক্ষার গুরুত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের প্রচার
আমি মনে করি, শুধু সুদানের ক্ষেত্রেই নয়, বিশ্বজুড়ে শিক্ষার গুরুত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রচার করা আমাদের সবার দায়িত্ব। যখন আমরা দেখি যে, শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তখন আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত, আমরা কি যথেষ্ট করছি? শিক্ষা শুধু পড়ালেখা নয়, এটা মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। এটা মানুষকে সংবেদনশীল করে তোলে, অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল করে তোলে। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
আমাদের নিজেদের শিশুদের শেখানো উচিত যে, পৃথিবীর অনেক শিশু কতটা কষ্টে আছে, এবং আমাদের তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। এই মূল্যবোধগুলো ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মনে গেঁথে দেওয়া উচিত। আমি তো মনে করি, এই ধরনের মানবিক শিক্ষা আমাদের সন্তানদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে সুদানের শিশুদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তব করার জন্য যা যা সম্ভব, তার সবকিছুই করি। কারণ প্রতিটি শিশুর হাসিই পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
글을 মাচিয়ে
এত দীর্ঘ আলোচনা শেষে আমার মনটা যেমন ভারাক্রান্ত, তেমনি কিছুটা আশান্বিতও। সুদান হোক বা পৃথিবীর অন্য যেকোনো প্রান্তের শিশু, তাদের শিক্ষাজীবন আমাদের সবারই দায়িত্ব। আমরা হয়তো ভাবি, আমাদের একার চেষ্টায় কী হবে?
কিন্তু বিশ্বাস করুন, ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই একদিন বড় পরিবর্তনের জন্ম দেয়। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই শিশুদের পাশে দাঁড়াই, তাদের স্বপ্নগুলোকে বাঁচিয়ে রাখি। কারণ প্রতিটি শিশুর হাসিই পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, আর সেই হাসি ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা আমাদের হাতেই। নিজেদের অবস্থান থেকে সাধ্যমতো চেষ্টা করি, যাতে জ্ঞানের আলোয় তাদের জীবন আলোকিত হয়।
알아두면 쓸모 있는 정보
১. আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোকে সমর্থন করুন: ইউনিসেফ, ওয়ার্ল্ড ভিশন, সেভ দ্য চিলড্রেনের মতো সংস্থাগুলো যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শিক্ষার প্রসারে কাজ করছে। তাদের আর্থিক বা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সাহায্য করতে পারেন।
২. সচেতনতা বৃদ্ধি করুন: সোশ্যাল মিডিয়ায় বা বন্ধুদের সাথে সুদানের শিশুদের শিক্ষার সংকট নিয়ে আলোচনা করুন। যত বেশি মানুষ জানবে, তত বেশি চাপ তৈরি হবে সমাধানের জন্য।
৩. শিক্ষার অধিকার নিয়ে সরব হোন: আপনার এলাকার জনপ্রতিনিধি বা আন্তর্জাতিক ফোরামে শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আবেদন জানান।
৪. স্থানীয় উদ্যোগগুলোকে সহায়তা করুন: যদি আপনার আশেপাশে এমন কোনো সংস্থা থাকে যারা দূরবর্তী শিশুদের শিক্ষায় সহায়তা করছে, তাদের সাথে যুক্ত হোন।
৫. মানবিক মূল্যবোধ প্রচার করুন: নিজের সন্তানদের এবং আশেপাশের মানুষকে শেখান যে পৃথিবীর প্রতিটি শিশুরই শিক্ষার অধিকার আছে এবং তাদের প্রতি সহমর্মী হতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ
এতক্ষণ ধরে আমরা সুদানের শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে যে গভীর সমস্যাগুলো আলোচনা করলাম, তা আসলে শুধু একটি দেশের সংকট নয়, এটি মানবতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এই সমস্যাটিকে কয়েকটি মূল ভাগে ভাগ করে দেখলে আমাদের জন্য বোঝা আরও সহজ হবে এবং আমরা কীভাবে এর সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারি, তা পরিষ্কার হবে।
সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ও শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্ষয়ক্ষতি
যুদ্ধ শুধু মানুষের জীবন কেড়ে নেয় না, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎকেও ধ্বংস করে দেয়। সুদানের চলমান সংঘাত সেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে একেবারে ভেঙে দিয়েছে। অসংখ্য স্কুল হয় ধ্বংস হয়েছে, না হয় আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আমি নিজের চোখে যখন এমন ছবি দেখি, তখন আমার মনটা হাহাকার করে ওঠে। শিশুরা আজ শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে। এর ফলে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যোগদানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা একটি সুস্থ সমাজের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। একটি প্রজন্মের যদি শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হয়, তাহলে তারা কিভাবে নিজেদের জীবন গড়বে এবং দেশের উন্নয়নে অংশ নেবে?
অর্থনৈতিক সংকট ও পরিবারের করুণ অবস্থা
দেশটির ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি শিক্ষার প্রসারে এক বিশাল বাধা। আমি নিজে অনুভব করতে পারি, যখন একটি পরিবার দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের জন্য সংগ্রাম করে, তখন তাদের পক্ষে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর খরচ চালানো কতটা কঠিন। বইপত্র, ইউনিফর্ম বা যাতায়াতের সামান্য খরচও অনেক পরিবারের জন্য অসাধ্য হয়ে উঠেছে। মুদ্রাস্ফীতি আর দারিদ্র্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শিক্ষা যেন একটি বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে তাদের সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই কাজে লাগিয়ে দিচ্ছেন, যা তাদের শৈশব কেড়ে নিচ্ছে এবং শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। এই সমস্যাগুলো আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে, কারণ প্রতিটি শিশুরই খেলাধুলা এবং শেখার অধিকার আছে।
শিক্ষকদের আত্মত্যাগ ও আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা
এই প্রতিকূলতার মধ্যেও সুদানের শিক্ষকরা যে নীরব সংগ্রাম করে চলেছেন, তা সত্যিই অতুলনীয়। মাসের পর মাস বেতন না পেয়েও তারা শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে, জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণা। তবে শুধু শিক্ষকদের একক প্রচেষ্টায় এই বিশাল সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, তাদেরও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাহায্য পৌঁছানো, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতির কারণে অনেক সময় প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সাহায্য পৌঁছায় না। আমি মনে করি, এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের আরও জোরালো এবং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারকে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাতে হবে এবং দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে, যাতে প্রতিটি সাহায্য শিশুর ভবিষ্যতের জন্য কাজে লাগে।
আমরা সবাই মিলে যদি এই শিশুদের পাশে দাঁড়াই, সচেতনতা বৃদ্ধি করি এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চাপ সৃষ্টি করি, তাহলেই কেবল সুদানের শিশুরা একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি মানবিক পৃথিবী গড়ি যেখানে শিক্ষার অধিকার থেকে কোনো শিশু বঞ্চিত হবে না।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: সুদানে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার এমন নাজুক পরিস্থিতির পেছনের মূল কারণগুলো কী কী?
উ: সত্যি বলতে কি, সুদানের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার এই করুণ দশার পেছনে বেশ কয়েকটি বড় কারণ দায়ী। আমি নিজে যখন এসব খবর পড়ি, তখন আমার মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। প্রথমেই আসে চলমান সংঘাতের কথা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে গৃহযুদ্ধ চলছে, সেটা সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে। স্কুলগুলো ভেঙে যাচ্ছে, অনেক সময় সেগুলো আশ্রয়কেন্দ্র বা সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভাবুন তো একবার, যেখানে ছোট ছোট শিশুরা বই হাতে হাসিমুখে স্কুলে যাবে, সেখানে তাদের স্কুলগুলোই যুদ্ধের ময়দানে পরিণত হয়েছে!
এরপর আসে অর্থনৈতিক সংকট। দেশটির অর্থনীতি এতটাই নড়বড়ে যে, শিক্ষকদের ঠিকমতো বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, স্কুলের মেরামত বা নতুন ভবন তৈরির কথা তো ভাবাই যায় না। প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণেরও চরম অভাব দেখা দিয়েছে। আর এই সবকিছুর ফলস্বরূপ লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। যখন মানুষ নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে, তখন শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার তাদের কাছে গৌণ হয়ে পড়ে। আমার মনে হয়, যুদ্ধ আর দারিদ্র্যের এই দুষ্টচক্রই সুদানের শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে।
প্র: এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সুদানের শিশুদের পড়াশোনা এবং শিক্ষকদের জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করছে বলে আপনার মনে হয়?
উ: আমার অভিজ্ঞতা বলে, এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। কল্পনা করুন, যেখানে আপনার সন্তানকে সকালে স্কুলে পাঠানোর কথা, সেখানে সুদানের লক্ষ লক্ষ শিশু স্কুলে যেতে পারছে না। জাতিসংঘের তথ্যমতে, সুদানের প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ শিশু এখন স্কুলের বাইরে, যা দেশটির মোট শিশুর চার-পঞ্চমাংশেরও বেশি। এই শিশুরা শুধু পড়ালেখা থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে না, তারা অপুষ্টি, রোগব্যাধি আর মানসিক ট্রমার শিকার হচ্ছে। অনেক শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, যা তাদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। আমার যখন এইসব কথা মনে আসে, তখন ভাবি, এই শিশুরা কীভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়বে!
শিক্ষকদের অবস্থাও খুব খারাপ। চরম প্রতিকূল পরিবেশে তাদের কাজ করতে হচ্ছে, অনেকেই হয়তো বেতন পাচ্ছেন না অথবা প্রাণের ভয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। যেখানে জীবনেরই নিরাপত্তা নেই, সেখানে শিক্ষাদান কতটা কঠিন, তা আমরা হয়তো কল্পনাও করতে পারবো না। এই শিক্ষকরাই তো আসলে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কারিগর, অথচ তারাই আজ এতটা অসহায়।
প্র: সুদানের এই বিপর্যস্ত শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব দেশটির ভবিষ্যতের জন্য কেমন হতে পারে?
উ: আমি মনে করি, এই প্রশ্নটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আজকের সমস্যাগুলোই তো ভবিষ্যতের পথ তৈরি করে। সুদানের শিক্ষা ব্যবস্থার এই বিপর্যস্ত অবস্থা দীর্ঘমেয়াদে দেশটির ভবিষ্যতের জন্য এক বিশাল ক্ষতির কারণ হবে। ভাবুন তো, যদি একটি পুরো প্রজন্ম মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে দেশটা কীভাবে এগোবে?
দক্ষ জনশক্তির অভাব দেখা দেবে, যা অর্থনীতির চাকা ঘুরতে দেবে না। প্রকৌশলী, ডাক্তার, শিক্ষক – এমন পেশার মানুষের সংখ্যা কমে যাবে, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। আমার মতে, শিক্ষার অভাবে এই শিশুরা বড় হয়ে সমাজে নানা ধরনের সমস্যায় জড়িয়ে পড়তে পারে, যা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। যখন একটি জাতি শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকে, তখন তাদের সামনে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই থাকে না। এই পরিস্থিতির যদি দ্রুত উন্নতি না হয়, তাহলে সুদান হয়তো একটি ‘হারানো প্রজন্ম’ (Lost Generation) এর দিকে এগিয়ে যাবে, যা তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে এক অনিশ্চিত গহ্বরে ঠেলে দেবে। এটা শুধু সুদানের সমস্যা নয়, মানবিকতার দিক থেকে দেখলে এটা আমাদের সবার জন্যই এক গভীর উদ্বেগের কারণ।






