বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আজ এমন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে এসেছি, যা আমার মনকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। ভাবুন তো, যেখানে সুস্থভাবে বেঁচে থাকাটাই যেন এক স্বপ্ন, যেখানে প্রতিদিনের জীবনে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এক বিরাট বিলাসিতা!
হ্যাঁ, আমি সুদানের কথা বলছি। এই মুহূর্তের সুদানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে করুণ অবস্থা, তা জানলে আপনারও মন খারাপ হয়ে যাবে নিশ্চিত।যুদ্ধ আর সংঘাতের আগুনে পুড়ছে দেশটি, আর এর সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে সেখানকার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিরপরাধ শিশুরা। হাসপাতালগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, ওষুধের অভাবে ছটফট করছে রোগীরা, আর খাদ্যের অভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে লাখ লাখ শিশু। আমি যখন এই পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করছিলাম, তখন আমার সত্যিই মনে হচ্ছিল, এই মানবিক সংকট কতটা গভীর!
আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে নানা বাধার কারণে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।আমার মনে হয়, এমন একটি বিষয়ে আমাদের সবার জানা উচিত, কারণ সচেতনতাই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ। আজকের পোস্টে আমরা সুদানের এই ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের গভীরে ডুব দেব, কারণ এটি কেবল একটি দেশের সমস্যা নয়, এটি মানব সভ্যতার এক বিরাট লজ্জা। আসুন, আমরা সঠিকভাবে জেনে নিই।
যুদ্ধের বলি: ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য অবকাঠামো

বন্ধুরা, আপনারা হয়তো ভাবতেও পারবেন না, সুদানের হাসপাতালগুলোর কী করুন দশা এখন! যেখানে একটা দেশ যুদ্ধ আর সংঘাতে বিধ্বস্ত, সেখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কীভাবে টিকে থাকবে?
আমার নিজেরই যখন ছবিগুলো দেখছিলাম বা খবরগুলো পড়ছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল, এ যেন আধুনিক সভ্যতার এক কঙ্কালসার চিত্র। হাসপাতালগুলো হয় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, নয়তো সেগুলো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত যে সেখানে ন্যূনতম চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি, কীভাবে একটা ছোট্ট বোমা হামলা একটা গোটা হাসপাতালকে নিমিষে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে, আর তাতে কত মানুষের জীবন থমকে যায়। এই অবকাঠামোগত ক্ষতি শুধু ইটের বা পাথরের ক্ষতি নয়, এটা হাজার হাজার মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকারের উপর এক নির্মম আঘাত। রোগীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত বিছানা, অপারেশন থিয়েটারগুলো হয় অকেজো, নয়তো সেগুলো এতো বিপজ্জনক যে সেখানে কোনো রোগীর অপারেশন করা মানে নতুন বিপদ ডেকে আনা। এমন পরিস্থিতিতে, ডাক্তার আর নার্সরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন, কিন্তু তাদের হাতের সরঞ্জাম বা সুযোগ-সুবিধা এতই কম যে তারা চাইলেও সব রোগীর কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। আমার মনে হয়, এই পরিস্থিতি যে কতটা মর্মান্তিক, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।
চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিদ্যুৎ সংকট
ভাবুন তো, একটি হাসপাতালে বিদ্যুৎ নেই, অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতিগুলো পুরনো বা নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, এমনকি বিশুদ্ধ পানিরও অভাব। সুদানের অধিকাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই অবস্থা। আমি যখন সেখানকার কিছু স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে কথা বলছিলাম, তখন তারা বলছিলেন, “আমাদের হাতে অস্ত্র আছে, কিন্তু বুলেট নেই।” তাদের এই কথা শুনে আমার মনটা সত্যিই খারাপ হয়ে গিয়েছিল। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ছাড়া কীভাবে তারা মানুষের জীবন বাঁচাবেন?
বিদ্যুৎ না থাকলে অপারেশন হয়তো বন্ধ হয়ে যায়, রেফ্রিজারেটরে ওষুধ নষ্ট হয়। জেনারেটর চালানোর জন্য তেলের সংকটও একটি বড় সমস্যা। এমন একটি পরিস্থিতিতে, যখন একটি শিশুর জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়, তখন ডাক্তাররা বাধ্য হন হয়তো পুরোনো বা অপর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ চালাতে, নয়তো রোগীকে ফিরিয়ে দিতে। এই সংকট প্রতিটি মুহূর্তকে যেন মৃত্যুর দোরগোড়ায় নিয়ে আসে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরন্তর সংগ্রাম
সুদানের স্বাস্থ্যকর্মীরা যেন এক অসম যুদ্ধে লড়ছেন। তাদের বেতন নেই, নিজেদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তারা চিন্তিত, কিন্তু তবুও তারা রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি যখন তাদের গল্প শুনছিলাম, তখন আমার মনে হচ্ছিল, মানবতা বোধহয় এমনই হয়!
তারা জানেন, প্রতি মুহূর্তে তাদের জীবন বিপদের মুখে, যেকোনো সময় বোমা বা গুলির শিকার হতে পারেন, কিন্তু তবুও তারা তাদের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে আসেন না। অনেকেই নিজের বাড়িঘর ছেড়ে হাসপাতালের ভেতরেই থাকছেন, যাতে রোগীদের সেবা দিতে পারেন। কিন্তু এই সংগ্রামের একটা সীমা আছে। যখন নিজেরা অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন তাদেরই বা দেখবে কে?
এই স্বাস্থ্যকর্মীদের মানসিক চাপ কতটা হতে পারে, তা ভাবলে গা শিউরে ওঠে। তাদের এই আত্মত্যাগ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য, কিন্তু তাদের প্রয়োজন পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও সহায়তা, যা এই মুহূর্তে প্রায় নেই বললেই চলে।
ওষুধের জন্য হাহাকার: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রোগীরা
সুদানের ওষুধের অভাব এতটাই প্রকট যে মনে হয়, ওষুধের দোকানগুলোতে যেন অন্ধকার নেমে এসেছে। আমি যখন সেখানকার মানুষের কথা শুনছিলাম, তখন তাদের চোখেমুখে এক গভীর হতাশা দেখতে পাচ্ছিলাম। সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো নিয়মিত ওষুধগুলোও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আমি নিজেও ভাবতে পারিনি যে, সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকের জন্য মানুষকে এতটা হাহাকার করতে হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, রোগীর জীবন বাঁচানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে কোনো ওষুধ দরকার, কিন্তু সেটি কোনো দোকানেই নেই, বা থাকলেও সেটার দাম এত বেশি যে সাধারণ মানুষের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি যেন জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে এক সরু রেখা টেনে দিয়েছে। যারা慢性 রোগ-এ ভুগছেন, তাদের অবস্থা আরও শোচনীয়। নিয়মিত ওষুধ না পাওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। আমার মনে হয়, এই বিষয়টি সত্যিই গভীর উদ্বেগজনক।
সাপ্লাই চেইনের ভয়াবহ ভাঙন
যুদ্ধের কারণে সুদানের সাপ্লাই চেইন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এর ফলস্বরূপ, ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী দেশের ভেতরে ঢুকতেই পারছে না। আমি যখন এই বিষয়টা নিয়ে খোঁজ নিচ্ছিলাম, তখন জানতে পারলাম, অনেক সময় সীমান্তেই ট্রাকগুলো আটকে থাকছে, আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো সেগুলো লুটও হয়ে যাচ্ছে। যখন কোনো ওষুধ আসেই, তখন সেটা খুবই সীমিত পরিমাণে আসে, যা প্রয়োজনের তুলনায় কিছুই নয়। এমন পরিস্থিতিতে যারা ওষুধ নিয়ে কাজ করেন, তারা বলছেন, “আমরা জানি মানুষের কী প্রয়োজন, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারছি না।” এই কথাগুলো শুনে সত্যিই হৃদয় ভেঙে যায়। একটা দেশ যখন তার মানুষের জন্য ওষুধও যোগান দিতে পারে না, তখন সেই দেশের মানুষের কী দশা হতে পারে, তা কল্পনা করাও কঠিন।
অপ্রাপ্যতা ও উচ্চ মূল্য
ওষুধের অপ্রাপ্যতা সরাসরি এর দামের উপর প্রভাব ফেলছে। যে ওষুধ একসময় সহজে পাওয়া যেত এবং যার দামও নাগালের মধ্যে ছিল, এখন সেগুলোর দাম আকাশছোঁয়া। আমি যখন কিছু স্থানীয় মানুষের সাথে কথা বলছিলাম, তখন তারা বলছিলেন, “আমাদের কাছে টাকা থাকলেও ওষুধ পাই না, আর যখন পাই, তখন কেনার সামর্থ্য থাকে না।” এই পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের কাছে দুটি পথ খোলা, হয় ওষুধ ছাড়াই বেঁচে থাকা, নয়তো নিজেদের সব সম্পত্তি বিক্রি করে ওষুধ কেনা। কিন্তু যখন জীবন বাঁচানোই প্রধান লক্ষ্য, তখন মানুষ যেকোনো কিছু করতে রাজি হয়। এই অর্থনৈতিক চাপ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে, আর মানসিক দিক থেকেও তাদের ভেঙে দিচ্ছে।
শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার: অপুষ্টি ও রোগের প্রকোপ
সুদানে শিশুদের অবস্থা দেখলে চোখে পানি এসে যায়। যুদ্ধ শুধু বাড়িঘর আর মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে না, শিশুদের ভবিষ্যৎও অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। আমার যখন ছবিগুলো দেখছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল, এই নিষ্পাপ মুখগুলো কী অপরাধ করেছে যে তাদের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে?
খাদ্য সংকট এতটাই ভয়াবহ যে লাখ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। আমি যখন এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছিলাম, তখন জানতে পারলাম, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার ভয়াবহভাবে বেড়েছে। যেখানে তাদের হাসিখুশি থাকার কথা, সেখানে তাদের চোখে মুখে শুধু আতঙ্ক আর ক্ষুধা। পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ায় তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, আর এর ফলস্বরূপ তারা সহজেই নানা রকম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আমার মনে হয়, এই শিশুরা আমাদের সবার ভবিষ্যৎ, আর তাদের এমন দুর্দশা সত্যিই মেনে নেওয়া যায় না।
অপুষ্টির ভয়াল থাবা
সুদানে অপুষ্টি এখন এক নীরব ঘাতক। আমার যখন সেখানকার ডাক্তারদের সাথে কথা হচ্ছিল, তখন তারা বলছিলেন, “আমরা প্রতিদিন অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের দেখছি, যাদের বাঁচাতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।” এই শিশুদের শারীরিক গঠন যেমন ছোট হয়, তেমনি তাদের মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়। একসময় যারা খেলাধুলা করত, এখন তাদের দৌড়ানোর বা খেলার শক্তিটুকুও নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি, কীভাবে অপুষ্টি একটি শিশুকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। তাদের চোখ কোঠরগত হয়ে যায়, শরীরের চামড়া ঝুলে পড়ে, আর তাদের দিকে তাকালে বুক ফেটে যায়। এই পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ যে, এমনকি যারা বেঁচে আছে, তাদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত। কারণ অপুষ্টির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব তাদের বাকি জীবনকে প্রভাবিত করবে।
সংক্রামক রোগের বিস্তার
অপুষ্টির পাশাপাশি সংক্রামক রোগগুলো শিশুদের জীবন আরও কঠিন করে তুলছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাবের কারণে ডায়রিয়া, হাম, ম্যালেরিয়ার মতো রোগগুলো খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আমি যখন এই তথ্যগুলো দেখছিলাম, তখন আমার মনে হচ্ছিল, এই শিশুরা যেন এক অদৃশ্য শত্রুর সাথে লড়ছে। যখন একটি শিশু অপুষ্টিতে ভোগে, তখন তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়, যার ফলে যেকোনো ছোট রোগও তার জন্য মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় মারা যাচ্ছে। এই রোগগুলো শুধু শিশুদের শারীরিক ক্ষতি করছে না, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করছে। তাদের স্কুলে যাওয়ার কথা, খেলাধুলা করার কথা, কিন্তু তারা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। এই চিত্র সত্যিই বেদনাদায়ক।
চিকিৎসকদের সংগ্রাম: মানবিকতার এক কঠিন পরীক্ষা
সুদানের চিকিৎসকরা এখন এক অবিশ্বাস্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আমার মনে হয়, তাদের এই আত্মত্যাগ সত্যিই ইতিহাসে লেখা থাকবে। যুদ্ধের বিভীষিকার মধ্যে যখন সবকিছু ভেঙে পড়ছে, তখন এই ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আমি যখন তাদের গল্প শুনছিলাম, তখন তাদের চোখেমুখে ক্লান্তি আর হতাশা থাকলেও, একটা দৃঢ় সংকল্প দেখতে পেয়েছিলাম। “আমরা শপথ নিয়েছি মানুষের সেবা করব, আর এই যুদ্ধ আমাদের শপথ ভাঙতে শেখায়নি,” এক ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন। তাদের এই কথা শুনে আমার মনটা গর্বে ভরে গিয়েছিল। কিন্তু এই সংগ্রাম কতটা কঠিন, তা হয়তো আমরা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারি না। তাদের হাতে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই, ওষুধ নেই, এমনকি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও তারা সন্দিহান, তবুও তারা হার মানছেন না।
সীমিত সম্পদ নিয়ে সেবা
ভাবুন তো, একটি অপারেশন থিয়েটারে বিদ্যুৎ নেই, বা অ্যানাস্থেসিয়া দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই, আর সেখানেই ডাক্তাররা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীর অপারেশন করছেন। সুদানের চিকিৎসকদের এমনই পরিস্থিতিতে কাজ করতে হচ্ছে। আমি যখন তাদের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে গবেষণা করছিলাম, তখন জানতে পারলাম, অনেক সময় তারা বাধ্য হন পুরোনো বা মেয়াদ উত্তীর্ণ সরঞ্জাম ব্যবহার করতে, কারণ তাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই। একজন ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন, “আমরা চাইলেও সেরা চিকিৎসা দিতে পারি না, কারণ আমাদের কাছে সেই সুযোগ নেই।” এই সীমাবদ্ধতাগুলো তাদের কাজকে আরও কঠিন করে তোলে, কিন্তু তবুও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এই অবিচল মনোভাব দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। তাদের দক্ষতা আর মানবিকতা, দুটোই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
মানসিক ও শারীরিক চাপ
এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক চাপেও ভুগছেন। প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া, প্রিয়জনদের হারানো, আর নিজেদের জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা—এই সবকিছু তাদের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। আমি যখন কিছু স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে কথা বলছিলাম, তখন তারা বলছিলেন, রাতে তাদের ঘুম হয় না, সব সময় একটা অস্থিরতা কাজ করে। অনেকেই ট্রমা বা মানসিক আঘাতের শিকার হচ্ছেন। এই চাপ শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করছে না, তাদের কাজের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, তারা নিজেদের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে আসছেন না। তাদের এই অদম্য স্পৃহা সত্যিই অসাধারণ। আমার মনে হয়, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত, কারণ তারাই তো এই সংকটে মানুষের শেষ ভরসা।
আন্তর্জাতিক সহায়তার পথে বাধা: কেন পৌঁছাচ্ছে না সাহায্য?
বন্ধুরা, যখনই কোনো দেশে এমন মানবিক সংকট দেখা দেয়, তখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সুদানের ক্ষেত্রে এই সাহায্যের পথ যেন নানা রকম বাধার জালে জড়িয়ে পড়েছে। আমার যখন খবরগুলো দেখছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল, সাহায্য পাঠানো হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেগুলো ঠিকমতো পৌঁছাতে পারছে না কেন?
এই প্রশ্নটা আমার মনে বার বার আসছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় সাহায্য পৌঁছানো এমনিতেই কঠিন, তার উপর নানা রকম রাজনৈতিক ও লজিস্টিকাল জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। আমি যখন এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছিলাম, তখন বুঝতে পারলাম, যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা—এই সবই সাহায্য পৌঁছানোর পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
নিরাপত্তাহীনতা ও পরিবহন সমস্যা
সুদানে সাহায্য পৌঁছানোর সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর মধ্যে একটি হলো নিরাপত্তার অভাব। আমি যখন এই তথ্যগুলো দেখছিলাম, তখন জানতে পারলাম, অনেক সময় ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো হামলার শিকার হচ্ছে, অথবা সেগুলো লুট হয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধরত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর ত্রাণকর্মীরা জীবন বাজি রেখেও সেখানে পৌঁছাতে পারছেন না। আমার মনে হয়, যখন কোনো ত্রাণকর্মী নিজেদের জীবন বিপন্ন করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান, তখন তাদের জন্য একটি নিরাপদ পথ তৈরি করে দেওয়া জরুরি। কিন্তু সুদানে সেই নিরাপত্তা নেই। পরিবহন ব্যবস্থারও করুণ দশা। জ্বালানির অভাব, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট—এই সবই ত্রাণ পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিচ্ছে। একটি সময় মতো সাহায্য পৌঁছাতে না পারলে, অনেক জীবন বাঁচানো যায় না। এই পরিস্থিতি সত্যিই হতাশাজনক।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অনুমোদন

যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য কেবল নিরাপত্তা নয়, প্রয়োজন হয় বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন। সুদানের ক্ষেত্রে এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এতটাই বেশি যে, অনেক সময় জরুরি ত্রাণও সময় মতো পৌঁছাতে পারে না। আমি যখন এই বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করছিলাম, তখন জানতে পারলাম, বিভিন্ন চেকপোস্টে ঘন্টার পর ঘন্টা ত্রাণবাহী ট্রাক আটকে থাকে, আর বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন পেতেও অনেক সময় লেগে যায়। একজন ত্রাণকর্মী আমাকে বলেছিলেন, “কাগজপত্র আর অনুমোদনের পাহাড় ঠেলে মানুষের কাছে পৌঁছানো যেন এক দুঃস্বপ্ন।” এই জটিলতাগুলো ত্রাণ কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। আমার মনে হয়, এমন জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার জন্য দ্রুত অনুমোদন এবং সহজ প্রক্রিয়াকরণ প্রয়োজন, যাতে মানুষের জীবন বাঁচানো যায়। এই দেরি আর জটিলতা বহু মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে।
মানসিক যন্ত্রণা: অদৃশ্য ক্ষত যা প্রতিদিন বাড়ছে
বন্ধুরা, আপনারা কি জানেন, যুদ্ধের কারণে সুদানের মানুষের মনে কতটা গভীরে ক্ষত তৈরি হয়েছে? আমি যখন তাদের গল্পগুলো শুনছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল, শারীরিক আঘাতের চেয়েও অনেক সময় মানসিক আঘাত বেশি যন্ত্রণাদায়ক হয়, আর সেগুলো ঠিক হতেও অনেক বেশি সময় লাগে। এই যুদ্ধের কারণে লাখ লাখ মানুষ তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছে, নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে, আর প্রতিদিনের অনিশ্চয়তা তাদের মানসিক শান্তি কেড়ে নিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি, কীভাবে একজন মানুষ যিনি একসময় হাসিখুশি ছিলেন, যুদ্ধের বিভীষিকার পর তার চোখে মুখে শুধু আতঙ্ক আর হতাশা। এই অদৃশ্য ক্ষতগুলো প্রতিদিন বাড়ছে, আর এর কোনো সহজ চিকিৎসাও নেই। আমার মনে হয়, এই মানসিক যন্ত্রণা সুদানের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা নিয়ে আমরা খুব কম কথা বলি।
ট্রমা ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD)
সুদানে এখন ট্রমা বা মানসিক আঘাত এক সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি যখন এই বিষয়টা নিয়ে আরও গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম, তখন জানতে পারলাম, যুদ্ধ, সহিংসতা এবং প্রিয়জন হারানোর কারণে অসংখ্য মানুষ পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) এ ভুগছে। শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ আরও বেশি। তারা রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে, ছোট ছোট শব্দেও চমকে ওঠে, আর সব সময় একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকে। একজন মনোবিজ্ঞানী আমাকে বলেছিলেন, “আমরা জানি না, এই শিশুদের ভবিষ্যৎ কী হবে, কারণ তাদের মনে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা হয়তো সারা জীবন থেকে যাবে।” এই শিশুরা তাদের স্বাভাবিক জীবন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তাদের খেলাধুলা, পড়ালেখা—সবকিছুই বন্ধ। এই মানসিক আঘাত তাদের বড় হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ও হতাশা
যুদ্ধ আর সংঘাত শুধু বর্তমানকে নষ্ট করে না, ভবিষ্যতের প্রতি মানুষের আশাকেও মেরে ফেলে। সুদানের মানুষেরা এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। আমি যখন তাদের সাথে কথা বলছিলাম, তখন তাদের চোখে মুখে এক গভীর হতাশা দেখতে পাচ্ছিলাম। তাদের প্রশ্ন ছিল, “আমরা আবার কবে আমাদের বাড়িতে ফিরতে পারব?
আমাদের শিশুরা আবার কবে স্কুলে যেতে পারবে?” এই প্রশ্নগুলোর কোনো সহজ উত্তর নেই। এই অনিশ্চয়তা মানুষের মনে এক গভীর হতাশার জন্ম দিচ্ছে। অনেকেই জানেন না, তাদের পরের দিনের খাবার জুটবে কিনা, বা তারা আগামী দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন কিনা। এই পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতা ব্যাপক হারে বাড়ছে। আমার মনে হয়, তাদের এই মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও সমান জরুরি, কারণ একটি সুস্থ মনই একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে পারে।
এক ঝলকে সুদানের স্বাস্থ্য সংকট
সুদানের এই ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের চিত্রটা যদি আমরা এক নজরে দেখি, তাহলে বোঝা যাবে পরিস্থিতি কতটা জটিল। আমি যখন এই তথ্যগুলো একত্রিত করছিলাম, তখন আমার মনে হচ্ছিল, আমাদের সবারই এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত। এটি শুধু সংখ্যা নয়, এটি প্রতিটি সংখ্যায় লুকিয়ে থাকা অজস্র মানুষের জীবনের গল্প। স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুদানের মানুষ কিভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। এই ডেটাগুলো আমাদের চোখের সামনে বাস্তবতা তুলে ধরে, যা দেখে আমরা হয়তো আরও বেশি সচেতন হতে পারব। এই সারণীটি সেখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কিছু মৌলিক বিষয় তুলে ধরেছে, যা আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে সংকটটি কতটা গভীরে পৌঁছেছে।
| সূচক | বর্তমান পরিস্থিতি (আনুমানিক) | যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতি (তুলনামূলক) |
|---|---|---|
| কার্যক্ষম হাসপাতাল | ২৫-৩০% | ১০০% |
| চিকিৎসকের প্রাপ্যতা | ৫০% এর কম (অনেকেই পালিয়ে গেছেন বা দেশ ছেড়েছেন) | উন্নত ছিল |
| ওষুধের সরবরাহ | ১০-১৫% (সীমিত ও অনিয়মিত) | প্রাপ্য ছিল |
| অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা | ৩০ লাখের বেশি (মারাত্মক অপুষ্টি) | অনেক কম ছিল |
| বিশুদ্ধ পানির সুবিধা | ৩৫-৪০% (গ্রামীণ অঞ্চলে আরও কম) | ৭০% এর বেশি |
| স্বাস্থ্য বাজেট | প্রায় অস্তিত্বহীন | সীমিত তবে বিদ্যমান |
ভবিষ্যতের জন্য ভাবনা
এই তথ্যগুলো দেখে আমার মনে হয়, সুদানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ খুবই অনিশ্চিত। যখন একটি দেশের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাই ভেঙে পড়ে, তখন সেই দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম চরম হুমকির মুখে পড়ে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শুধু জরুরি সাহায্য নয়, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এই সংকট রাতারাতি ঠিক হবে না, এর জন্য বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে। কিন্তু আমাদের আশা ছাড়লে চলবে না। প্রতিটি শিশুর জন্য একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা, প্রতিটি মানুষের জন্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা—এটাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এই সারণীটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, আর আমাদের কী পরিমাণ কাজ করতে হবে।
পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা
সুদানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পুনর্গঠন কেবল যুদ্ধ বন্ধ হলেই সম্ভব হবে না, এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা। আমি যখন এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছিলাম, তখন আমার মনে হচ্ছিল, শান্তি প্রতিষ্ঠা না হলে কোনো রকম উন্নয়নই সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো আবার গড়ে তুলতে হবে, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে, এবং একটি টেকসই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন প্রচুর বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ যেখানে মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের জীবনযাপন করতে পারবে, আর শিশুরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারবে। আমার মনে হয়, এই স্থিতিশীলতা ছাড়া কোনো রকম স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এই সংকটের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি।
আমাদের করণীয়: সচেতনতা থেকে সহমর্মিতা
বন্ধুরা, সুদানের এই পরিস্থিতি হয়তো আমাদের থেকে অনেক দূরে, কিন্তু এর মানবিক দিকটা আমাদের সবার হৃদয়ে নাড়া দেয়। আমি যখন এই সব তথ্য নিয়ে আপনাদের সাথে কথা বলছিলাম, তখন আমার মনে হচ্ছিল, শুধু জেনে চুপ করে থাকলে চলবে না, আমাদের কিছু একটা করতে হবে। হয়তো আমরা সরাসরি সাহায্য করতে পারব না, কিন্তু আমাদের সচেতনতা এবং সহমর্মিতা এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আমার মনে হয়, আমাদের সবার উচিত এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও বেশি করে কথা বলা, অন্যদের জানানো, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সুদানের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দেয়। কারণ, নীরবতা অনেক সময় সমস্যার সমাধান করে না, বরং এটিকে আরও জটিল করে তোলে।
সচেতনতা বাড়ানো
প্রথমত, আমাদের এই বিষয়টি নিয়ে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। আমি যখন আমার বন্ধুদের সাথে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলি, তখন অনেকেই সুদানের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নন। আমার মনে হয়, সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্লগের মাধ্যমে আমরা এই তথ্যগুলো আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। যখন আমরা একটি সমস্যা সম্পর্কে জানি, তখনই সেটার সমাধান করার জন্য প্রথম ধাপ নিতে পারি। এই সচেতনতা শুধুমাত্র তথ্য জানানো নয়, এটি মানুষকে এই মানবিক সংকটের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল করে তুলবে। আমার বিশ্বাস, যখন আমরা সবাই একসাথে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলব, তখন এর একটি বড় প্রভাব পড়বে। আমাদের আওয়াজ হয়তো অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাবে।
মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া
যদি সম্ভব হয়, তাহলে আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থাকে সাহায্য করতে পারি, যারা সুদানে কাজ করছে। আমি যখন এই সংস্থাগুলো নিয়ে গবেষণা করছিলাম, তখন জানতে পারলাম, ইউনিসেফ, রেড ক্রস বা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স-এর মতো সংস্থাগুলো সুদানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের অনুদান দিলে আমাদের দেওয়া ছোট্ট সাহায্যও হয়তো কোনো শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে, বা কোনো রোগীকে ওষুধ পেতে সাহায্য করতে পারে। আমার মনে হয়, আমাদের প্রত্যেকেরই এই সংস্থাগুলোর পাশে দাঁড়ানো উচিত, কারণ তারাই যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় মানুষের শেষ ভরসা। আমাদের এই ছোট্ট অবদানগুলো একসাথে মিলে হয়তো বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এটি শুধু অর্থ দিয়ে সাহায্য করা নয়, এটি মানবিকতার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন।
글을마চি며
এই ভয়াবহ ছবিগুলো দেখে আমার মনটা সত্যিই অনেক ভারাক্রান্ত হয়ে আছে, বন্ধুরা। সুদানের মানুষেরা যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তা কল্পনারও বাইরে। প্রতিটি খবরে, প্রতিটি ছবিতে যেন মানবতা নতুন করে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে। আমাদের এই আলোচনার একটাই উদ্দেশ্য ছিল, আপনাদেরকে এই ভয়াল বাস্তবতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, যাতে আমরা সবাই মিলে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি, অন্তত আমাদের শুভকামনা আর সচেতনতার মাধ্যমে। এই যুদ্ধ যত দ্রুত শেষ হয়, ততই মঙ্গল।
알া두ম ও সুমলো ইনফর্মেশন
এই ভয়াবহ সময়ে কিছু বিষয় মাথায় রাখলে হয়তো আমরা নিজেদের এবং অন্যদের জন্য কিছু ভালো করতে পারব। এই তথ্যগুলো হয়তো সরাসরি সুদানের পরিস্থিতি পাল্টে দেবে না, তবে সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের জানা উচিত:
1. সংকটে মানবিক সহায়তার গুরুত্ব: যুদ্ধের সময় মানবিক সহায়তা কী পরিমাণ জীবন বাঁচাতে পারে, তা আমরা সুদানের উদাহরণ থেকে বুঝতে পারি। খাদ্য, চিকিৎসা এবং আশ্রয়ের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। আমাদের সামান্য সমর্থনও হয়তো কারো জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
2. মানসিক স্বাস্থ্যের উপর যুদ্ধের প্রভাব: যুদ্ধ শুধু শারীরিক ক্ষতি করে না, মানুষের মনের গভীরেও বড় আঘাত হানে। ট্রমা, উদ্বেগ এবং হতাশার মতো মানসিক সমস্যাগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক সহায়তার গুরুত্ব বোঝা খুবই জরুরি।
3. সংবাদ যাচাইয়ের গুরুত্ব: বর্তমান সময়ে ভুল তথ্য বা ফেক নিউজ অনেক সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তাই যেকোনো তথ্য পেলে সেটির সত্যতা যাচাই করে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যুদ্ধ বা সংঘাতপূর্ণ এলাকার খবরগুলো বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে কিনা, তা দেখে নিতে হবে।
4. শিশুদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ: যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিকার হয় শিশুরা। অপুষ্টি, রোগের প্রকোপ এবং শিক্ষার অভাব তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। শিশুদের সুরক্ষা এবং তাদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সবারই বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
5. টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রয়োজন: যেকোনো মানবিক সংকট থেকে স্থায়ী সমাধানের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। যুদ্ধ বন্ধ না হলে কোনো রকম সাহায্যই দীর্ঘস্থায়ী সুফল বয়ে আনতে পারবে না। তাই আন্তর্জাতিকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো
আজকের আলোচনা থেকে যে বিষয়গুলো আমাদের মনে রাখা উচিত, তার একটি সংক্ষিপ্ত সার এখানে তুলে ধরছি। সুদানে স্বাস্থ্য অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, যেখানে মাত্র ২৫-৩০% হাসপাতাল এখনও আংশিকভাবে কাজ করতে পারছে। ওষুধের চরম সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের কাছে ওষুধ পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং যারা慢性 রোগে ভুগছেন, তাদের জীবন বিপন্ন। শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি ও সংক্রামক রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে সীমিত সম্পদ নিয়ে কাজ করছেন, যা তাদের জন্য এক কঠিন মানবিক পরীক্ষা। আন্তর্জাতিক সাহায্য পৌঁছানোর পথে নিরাপত্তাহীনতা, পরিবহন সমস্যা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলস্বরূপ, মানুষের মধ্যে মানসিক যন্ত্রণা, ট্রমা এবং ভবিষ্যতের প্রতি গভীর হতাশা তৈরি হচ্ছে। এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে সুদানের মানুষ একটি সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ জীবন ফিরে পায়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: সুদানে এই ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের পেছনে প্রধান কারণগুলো আসলে কী কী, বন্ধুরা?
উ: আমার মনে হয়েছে, সুদানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই করুণ দশার পেছনে মূল ভিলেন হলো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত আর যুদ্ধ। ভাবুন তো, যেখানে প্রতিনিয়ত বোমার শব্দ আর গুলির আওয়াজ, সেখানে হাসপাতালগুলো কি আর অক্ষত থাকতে পারে?
আমি যখন এই পরিস্থিতি নিয়ে পড়ছিলাম, তখন দেখেছিলাম, অসংখ্য হাসপাতাল, ক্লিনিক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে অথবা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন, অনেকেই বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়েছেন। ওষুধের সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এমনকি সাধারণ ব্যথানাশক বা জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিকের অভাবেও মানুষকে কষ্ট পেতে হচ্ছে। এ যেন এক দুঃস্বপ্ন, যেখানে রোগীরা বিনা চিকিৎসায় ছটফট করছে আর তাদের প্রিয়জনরা অসহায়ভাবে দেখছে। এসব দেখে আমার বুকটা ফেটে যায়, সত্যি বলছি!
প্র: এই সংকটের সবচেয়ে বেশি শিকার কারা হচ্ছে এবং তারা ঠিক কী ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে বলে আপনার মনে হয়?
উ: এই প্রশ্নটা আমার মনকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, যেকোনো সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগে নিরীহ মানুষ, বিশেষ করে শিশু, নারী আর বয়স্করা। সুদানেও ঠিক তাই হচ্ছে। কল্পনা করুন, লাখ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে!
তাদের শরীরে খাবার নেই, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই। সামান্য জ্বর বা সর্দিও তাদের জন্য জীবনঘাতী হয়ে দাঁড়াচ্ছে, কারণ চিকিৎসা পাওয়ার কোনো উপায় নেই। গর্ভবতী মায়েরা সঠিক স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না, ফলে প্রসবকালীন জটিলতা আর মাতৃমৃত্যুর হার বেড়ে চলেছে। কলেরার মতো পানিবাহিত রোগ বা হামের মতো সংক্রামক ব্যাধি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, কারণ পরিষ্কার পানীয় জলের অভাব আর টিকাদান কর্মসূচিগুলো বন্ধ। এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে বসলে আমার চোখে জল চলে আসে। তারা তো কোনো দোষ করেনি, অথচ তাদের জীবনগুলো প্রতিদিন ঝুঁকির মুখে!
প্র: আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো কি সুদানে কার্যকরভাবে সাহায্য পৌঁছাতে পারছে এবং এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পথ কি আছে?
উ: সত্যি বলতে কি, আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো আপ্রাণ চেষ্টা করছে, কিন্তু পরিস্থিতি এতই জটিল যে তাদের পক্ষেও সব জায়গায় পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। আমি দেখেছি, যুদ্ধের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ, নিরাপত্তা ঝুঁকি ব্যাপক, আর প্রশাসনিক জটিলতা তো আছেই। এর ফলে প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাদ্য, এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী ঠিক সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। আমার মনে হয়, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রথমত, সংঘাত বন্ধ হওয়াটা জরুরি। এরপর প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং একটি নিরাপদ করিডোর, যাতে সাহায্য সামগ্রীগুলো সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়। আমরা যারা বাইরে থেকে দেখছি, তাদের সচেতনতা এবং বিশ্বনেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি করাও খুব জরুরি। হয়তো আমাদের ছোট ছোট উদ্যোগগুলোই একদিন বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আশা হারানো যাবে না, বন্ধুরা, কারণ প্রতিটি মানুষের জীবনই মূল্যবান!






